একটি অদৃশ্য ভাইরাস, যা শেষ কয়েক বছরে ওলটপালট করে ছেড়ে দিয়েছে সারা পৃথিবীর মানুষের জীবনযাত্রা। বহু মানুষ হারিয়েছেন তার প্রিয়জনকে, বহু সন্তান হয়েছে পিতৃমাতৃহারা। মৃত্যুর এক ভয়াবহ বিভীষিকাময় ছবির সাক্ষি থেকেছেন সকলেই, প্রতি মুহূর্তেই তাড়া করে বেড়িয়েছে মৃত্যুভয়। তারপর ধীরে ধীরে বহু চেষ্টার পর বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন ভ্যাকসিনের। দেশে বহু মানুষ ভ্যাকসিনেটেডও হয়েছেন। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত দেশের আনুমানিক ২৫ শতাংশ মানুষের ভ্যাকসিনেশন সম্পূর্ন হয়েছে।
কিন্তু এতো কিছুর পরেও আতঙ্ক কাটছে কই? ধীরে ধীরে আশ্বাস পেয়ে মানুষ স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে চাইলেও সম্পূর্ন স্বাভাবিক ছন্দে জীবনে ফেরা আদৌ হয়ে উঠছে না। প্রায় দেড় বছর কেটে গেলেও আজও করোনার দাপট অব্যাহত দেশে। তবে হঠাৎ হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা এই সংক্রমনের চোখ রাঙানির মাঝেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে বদ্ধপরিকর দেশ ও দেশবাসী। প্রবল ভাবে সেই চেষ্টা চালিয়েও যাচ্ছেন তারা। কিন্তু উৎসবের মরশুম চলাকালিন চিন্তা বাড়াচ্ছে কোভিড গ্রাফের ওঠানামা।
{link}
বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১১ হাজার ৪৬৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। যা গতকালের থেকে খানিকটা বেশি। রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণে হলেও নতুন করে ভয় ধরাচ্ছে কেরলের কোভিড গ্রাফ। শুধু দক্ষিণের এই রাজ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন ৬৪০৯ জন। আবার একদিনে দেশে বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। রিপোর্ট অনুযায়ী, মারণ ভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬০ জন। যার মধ্যে কেরলে মৃত ৪৭ জন। ছটপুজোর আগে যে ছবিটা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। দেশে এখনও অবধি করোনার বলি ৪ লক্ষ ৬১ হাজার ৮৪৯ জন।
{link}
বিশেষজ্ঞদের ধারনা ছট পূজা সম্পূর্ন হওয়ার পর এই সংক্রমন আরও কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এহেন পরিস্থিতিতেই পুজোর পরেই খুলবে সমস্ত স্কুল ও কলেজ। যার ফলে এখনও রাজ্য সরকারও কিছুটা চিন্তায় রয়েছে। ভবিষ্যৎ সম্পূর্ন সুরক্ষিত করার চেষ্টা চললেও তা আর হয়ে উঠছে কই?
