ঠিক যেমন ছবি চোখে পড়েছিল বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ একাধিকবার জনসমক্ষেই বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ন্যায় অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্বেরা। ভোট মিটে উপনির্বাচন ঘোষনা হওয়ার পরেই কার্যত একেবারে উলাটপুরান, এবার নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিছুদিন আগেই উপনির্বাচন না হওয়ায় কমিশন-বিজেপি আঁতাঁতের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন তৃণমূল নেতারা। কেবলমাত্র ভবানীপুরেই উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করায় এবার কমিশনকে দুষতে শুরু করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতির প্রশ্ন, কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়েই কি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচন কমিশন?
৩০ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে ভবানীপুরে। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুর বিধানসভা আসনেও ভোট হবে এদিন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯২টি মধ্যে ২১১টি আসন পায় তৃণমূল। তবে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারির কাছে সামান্য ভোটে হেরে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে জয়ী করে ফেরাতেই বিধায়ক পদে ইস্তফা দেন ভবানীপুরে জয়ী প্রার্থী তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেই কারণেই হচ্ছে উপনির্বাচন। ওই কেন্দ্রেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়লাভ করবেন বলে আশাবাদী তৃণমূল।
{link}
ভবানীপুরে উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হলেও খড়দহ সহ রাজ্যের বাকি চার আসনে তা এখনও ঘোষণা করেনি কমিশন। এনিয়েই সরব হয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রশ্ন, বিশেষ কোনও প্রার্থী যাতে ভোটে জেতেন, তার ব্যবস্থা করে দেওয়াই কি নির্বাচন কমিশনের কাজ? বলা হচ্ছে, ভবানীপুরে উপনির্বাচন না হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি হেরে যান, তাহলে কি সেই সংকট তৈরি হবে না? তিনি বলেন, যেখানে গোটা দেশে ৩১টি আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা, সেখানে শুধুমাত্র ভবানীপুরকেই কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হল? তাঁর প্রশ্ন, তাহলে কি চাপের মুখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? ভবানীপুরে যা হচ্ছে, তা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক বলেই মনে করেন দিলীপ।
স্বাভাবিক ভাবেই কষ্টদায়ক অবস্থা নির্বাচন কমিশনের। কেউ না কেউ এক এক করে সকল পদক্ষেপ নিয়েই দুষেই চলেছেন। যদিও দিলীপ ঘোষের করা এই মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
