কিছুদিন আগেই কলকাতা এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাথ ধরে হাতে তুলে নিয়েছেন তৃণমূলের পতাকা। তার পথ অনুসরণ করেই গোয়ায় অনেক নেতা কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। ক্যাথলিক ও হিন্দু দুই সম্প্রদায়ের ভোটই যাতে তৃণমূলের ঝুলিতে পড়ে আপাতত সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন জোড়াফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। ক্যাথলিকদের বড় অংশের ভোটই এতদিন গিয়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। আর হিন্দুদের ভোট বিজেপিতে। এবার এই দুই সম্প্রদায়ের ভোটই এক বাক্সে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের ভোট ম্যানেজারেরা।
{link}
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে গোয়া বিধানসভা নির্বাচন। ৪০ আসন বিশিষ্ট গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে সবকটি আসনেই প্রার্থী দিতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। সেজন্য প্রস্তুতিও সারা। আরব সাগরের তীরের এই ছোট্ট রাজ্যে ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছেন ডেরেক ও ব্রায়েন। রবিবারই উড়ে গিয়েছেন বাবুল ও সৌগত। এর ঢের আগেই সেখানে গিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাক।
{link}
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আইপ্যাকের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েই গোয়া উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন। ডেরেক ক্যাথলিক খ্রিষ্টান। গোয়ার একটা বড় অংশেই বাস ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের। ডেরেক ইংরেজিটাও ভালো বলেন। সেই জন্যে গোয়ায় তৃণমূলের জমি শক্ত করতে সবার আগে ডেরেককেই পাঠানো হয়েছে গোয়ায়।
গোয়ায় হিন্দুরাই সংখ্যাগুরু। এ রাজ্যের ৬৫ শতাংশ ভোটারই হিন্দু। তৃণমূলের ফেভারে তাঁদের টানতে পাঠানো হয়েছে বাবুল সুপ্রিয় এবং সৌগত রায়কে। সর্বোপরি, দলে টেনে নেওয়া হচ্ছে বলিউড অভিনেত্রী বর্ষা উসগাঁওকরকে। এই বর্ষার বাবা অচ্যুত কে এস উসগাঁওকর গোয়ার মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। গোয়া বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারও ছিলেন এক সময়। বেশ কয়েকবার মন্ত্রীও হয়েছেন। পারিবারিক সেই সূত্র এবং অভিনয় দুয়ের জেরে গোয়ায় বর্ষা বেশ জনপ্রিয়। তাঁকে দলে যোগদান করিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছে তৃণমূল। একদিকে যেমন বর্ষাকে দেখিয়ে বলিউডের আরও তারকাকে দলে টানা যাবে, তেমনি পাওয়া যাবে হিন্দু ভোটের একটা বড় অংশও। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, ক্যাথলিক এবং হিন্দু ভোট এক ঝুলিতে টানা গেলে গোয়া দখল হবে স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
{link}
ধীরে- ধীরে আরব সাগরের ছোটো রাজ্যে ক্রমেই শক্তি বাড়ছে তৃণমূলের। একে একে বড় মুখ যোগ দিচ্ছেন ঘাসফুল শিবিরে। প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক তৃণমূলের পথ-প্রবর্তক হয়ে আগেই ত্রিপুরা মিশন সফল করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের বিশেষজ্ঞরা। ২০২২এই বিধানসভা নির্বাচন গোয়ায়। তৃণমূলের পতাকা কি উড়বে আরব সাগরের ধারে সেতা সময়ই বলবে।
