একসময় তিনি তৃণমূলের তারকা নেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন। দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চেও। কিন্তু সেই নায়কই একুশের বিধানসভা ভোটের আগে দলবদলের হাওয়ায় গা ভাসিয়ে গিয়ে যোগ দেন বিপক্ষ শিবিরে। তার ফলে বর্তমান হয়ত মনে মনে আবার তৃণমূলে ফিরতে চাইলেন হিরণের জন্য বন্ধ তৃণমূলের দরজা! অন্তত এমনই জানিয়ে দেওয়া হল তৃণমূলের তরফে। সেক্ষেত্রে হিরণ যদি বিজেপি ছাড়েন, তাহলে কোন দলে যাবেন? নাকি রাজনীতিই ছেড়ে দিতে চাইছেন এই তারকা নেতা? উঠছে প্রশ্ন। যদিও বিজেপির দাবি, দল ছাড়ছেন না হিরণ।
দীর্ঘ দিন তৃণমূলে ছিলেন অভিনেতা হিরণ। যুব তৃণমূলের সহ সভাপতিও হয়েছিলেন তিনি। একুশের ভোটের আগে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে হিরণ যোগ দেন বিজেপিতে। গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পুরস্কার বাবদ খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্রের টিকিট দেওয়া হয় তাঁকে। বিপুল ভোটে জয়ী হন হিরণ।
ভোটের পর থেকে বিজেপির সদ্য প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় হিরণের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দূরত্ব। পরিস্থিতি এমনই দাঁড়ায় যে দিলীপ-হিরণ মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়। ইদানিং দলীয় কোনও অনুষ্ঠানেও আর দেখা যায় না বিজেপির এই তারকা বিধায়ককে। তা থেকেই হিরণের দল ছাড়ার ব্যাপারে শুরু হয়েছে জল্পনা।
{link}
তবে হিরণ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরতে চাইলেও সে দরজা বন্ধ বলে তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর। খড়গপুরের এক তৃণমূল নেতা তো স্পষ্টই জানালেন, হিরণ তৃণমূলে ফিরতে চাইলেও, তাঁকে ফেরানো হবে না।
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিধানসভা ভোটে ডোমজুড়ে প্রার্থীও হন তিনি। গোহারা হারেন। মোহভঙ্গ হওয়ায় তৃণমূলে ফেরার তোড়জোড় শুরু করেন। দেখা করেন তৃণমূলের একাধিক পদস্থ নেতার সঙ্গে। তার পরেও রাজীবের জন্য দরজা খোলেনি তৃণমূল। কারণ ডোমজুড়ের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের প্রবল বাধা। স্বাভাবিক ভাবেই যখন তৃণমূলের এতো পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখের জন্যই যখন এখনও পর্যন্ত দরজা খোলা হয়নি, তাহলে যে এখন তৃণমূলে ফেরার চেষ্টা করলে বাধার মুখে পড়তে হবে হিরণকেও, সে কথা কার্যত স্পষ্ট।
এই জন্যই এখন চেয়েও আর দলে ফেরা হচ্ছে না রাজীব, হিরনের মতো এহেন দলবদলু আরও অনেক নেতার। বাংলা প্রবাদ বাক্যে আছে না, ‘ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই’ পরিস্থিতি অনেকটা এইরকমই।

