নিজস্ব সংবাদদাতাঃ দলে ‘অনুগামীরাজ’ চলছে- অভিযোগ তুলে বিজেপি ছাড়লেন হাওড়া জেলা যুব মোর্চার সহ সভাপতি অমিত ভট্টাচার্য। যার ফলে হাওড়ার রাজনৈতিক মহলে আরও শক্তিক্ষয় হল বিজেপির। দলে শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাব ও তৃণমূল থেকে আসা গোবিন্দ হাজরাকে উচ্চ পদে বসানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দল ছাড়েন তিনি। দলের কর্মকান্ডের কারনে যে রীতিমতো অসন্তুষ্ট তিনি, তা স্পষ্ট।
নয়া কমিটি গঠনের পর জেলায় জেলায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়েছে। তার জেরে নিত্যদিন বাড়ছে অসন্তোষ। এদিন সেই ক্ষোভই উগরে দিয়ে অমিত বলেন, শুভেন্দু অধিকারী দলে তাঁর ‘অনুগামীরাজ’ চালাচ্ছেন। পুরানো কর্মীদের ভুলে গিয়ে তৃণমূল থেকে আসা লোকজনকে যেভাবে দলে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তারই প্রতিবাদে আমি বিজেপি ছাড়লাম।
{link}
শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ক্ষোভের পারদ চড়েছে আগেও। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বিজেপির হাওড়া জেলা সভাপতি সুরজিৎ সাহা। তার জেরে দল তাঁকে বহিস্কার করে। পরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। অমিত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করছি। কিন্তু দেখলাম, ডোমজুড়ে তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান গোবিন্দ হাজরাকে দলের হাওড়া জেলার সহ সভাপতি করা হল। এই গোবিন্দের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিলাম বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। কিন্তু এবার দল ছাড়ার সিদ্ধান্তই নিলাম।
বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন সুরজিৎ। অমিতও কি সেই পথে পা বাড়াবেন? প্রাক্তন এই বিজেপি নেতার সপাট উত্তর, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের মঞ্চ হলে আমার কোনও আপত্তি নেই। এতএব সুরজিতের পথে যাওয়ার যে একটা বড়ো সম্ভাবনা রয়েছে কথায় সেই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনিও পদ্ম ত্যাগের পর জোড়া ফুলের ছত্রছায়ায় আসেন কি না তাই আসন্ন সময় দেখার বিষয়।
