বঙ্গ রাজনীতিতে স্বজন-পোষণের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এই অভিযোগ তুলেই তৃণমূল দল ছেড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরেও এর একটি প্রতিফলন লক্ষ্যনীয় হয়েছিল। এক্ষেত্রে বঙ্গ রাজনীতিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সবজন-পোষণের অভিযোগ ওঠে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধেই। কিন্তু এবার প্রকাশ্যে কার্যত অন্য ছবি।
স্বজন-পোষণের অভিযোগে কাঠগড়ায় বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিজের সব লোককে টিকিট দিয়েছেন তিনি। ঘটনার প্রতিবাদে সদলে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন আসানসোল পুরসভার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি সভাপতি বিজয় ঠাকুর। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি বিধান উপাধ্যায়, জেলা চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় এবং আসানসোল পুরসভার ১০৬টি ওয়ার্ডের আহ্বায়ক ভি শিবদাশন দাশু।
{link}
বিজয় এক সময় তৃণমূলেই ছিলেন। পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে ভিড়েছিলেন। এদিন ফের ফিরলেন তৃণমূলে। বিজয় বলেন, এক সময় তৃণমূলে ছিলাম। তৃণমূল ছেড়েছিলাম এই জিতেন্দ্র তিওয়ারর জন্য। এখন বিজেপি ছাড়ার কারণও সেই জিতেন্দ্র তিওয়ারি। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, জিতেন্দ্র তিওয়ারি নিজের সব লোককে প্রার্থী করেছে। এমনকি তাঁর গাড়ির চালককেও টিকিট দিয়েছেন। অথচ দশ বছর ধরে যাঁরা দল করছেন, তাঁদের কোনও সম্মান নেই!
এদিন বিজেপিকেও নিশানা করেছেন বিজয়। সদ্য দলবদলু এই নেতা বলেন, বিজেপি করার জন্য কেস খেয়েছি, মার খেয়েছি, জেলে গিয়েছি। বিজেপিতে কর্মীদের কোনও দাম নেই। যাঁর কাছে টাকা আছে, সোর্স আছে, তাঁরই কথা চলে বিজেপিতে। বিজেপিতে সাধারণ কর্মীদের কোনও সম্মান নেই। আর তাই বিজেপি ছেড়েছি।
{link}
স্বজন-পোষণের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন জিতেন্দ্র। তিনি বলেন, সবারই ইচ্ছা থাকে কাউন্সিলর হওয়ার। কিন্তু সবাই তো আর প্রার্থী হতে পারেন না। আমি নিজে কিছু করিনি। দল এবং আমাদের জেলা সভাপতি, সবাই মিলে আলোচনা করে প্রার্থী ঠিক করেছেন। কিন্তু এই পর্যন্ত এই প্রার্থী তালিকা বিজেপিকে কটি আসন এনে দিতে সক্ষম হয়, তাই দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে বলে মতামত রাজনৈতিক মহলের।
.jpeg)
