আর কিছু সময়ের মধ্যেই কিংবা বলা চলে এই বছর শেষ হওয়ার আগেই হওয়ার সম্ভাবনা পঞ্চায়েত নির্বাচনের। সেই নিয়ে এখন থেকেই চিন্তা জেগেছে শাসক শিবিরে। অর্থাৎ পঞ্চায়েত নির্বাচনে অনেক বিরোধী দল প্রার্থী দিতে পারেনি। তার ফল ভোগ করতে হয়েছে ঘাসফুল শিবিরকে। এমনই মন্তব্য করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার হুগলির ধনিয়াখালি বেলমুড়িতে দলের এক সাংগঠনিক সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি। যা শুনে বিরোধীদের কটাক্ষ, একেই বলে তৃণমূলের বিলম্বিত বোধোদয়!
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের বহু পঞ্চায়েতেই বিরোধীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে। তার জেরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়ে যায় তৃণমূল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, বামেদের কায়দায় কোথাও ভয় দেখিয়ে, কোথাও বা বলপ্রয়োগ করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি। বামেদের মতোই রাজ্যের শাসক দলও সাফাই দিয়েছিল, বিরোধীরা প্রার্থী দিতে না পারলে কি আমরা প্রার্থী দিয়ে দেব! তৃণমূলের এহেন সাফাইয়ের খবরে আলোড়ন পড়েছিল গোটা রাজ্যে।
{link}
এখন যে সেসব দিন অতীত, তা এদিনের সাংগঠনিক সভায় বুঝিয়ে দিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমি আজ এখান থেকে বলে দিতে চাই, যারা পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াই করতে চায়, তাদের লড়াই করতে দিতে হবে। যারা জিতবে, তারাই আগামিদিনে পঞ্চায়েতে আসবে। কারণ ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে অনেক বিরোধী দল প্রার্থী দিতে পারেনি। তার ফল আমাদের ভোগ করতে হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে সেটা যেন রিপিট না হয়। বাস্তবটা হল, সেই মানুষগুলোই ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিয়েছে। অতএব ভোট যেন সবাই দিতে পারে সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
মোটমাটভাবে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল অঙ্কে জয়লাভ করায় এখন আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের। যেই কারনেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীদের তাদের প্রাপ্য যায়গা ছেড়ে দিয়ে নিজেদেড় শক্তি দিয়ে নায্য পদ্ধতিতেই ভোটে জয়লাভ করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।
