এবার রাজ্যে বালি মাফিয়াদের দাপট আটকাতে উদ্যোগী রাজ্য প্রশাসন। সেই লক্ষ্যেই বালি মাফিয়াদের লাগাম পরাতে রাজ্যে চালু হচ্ছে স্যান্ড মাইনিং পলিশি। বালি মাফিয়াদের কেউ করে খাচ্ছে দেখলেই নালিশ জানানোর নিদানও আজ, বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানান মমতা।
রাজ্যের বিভিন্ন বালি খাদান থেকে প্রতিদিন চুরি যায় টন টন বালি। মাফিয়াদের এই বালি চুরির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবেশ। রাজস্ব হারায় সরকার। মাফিয়াদের এই চৌর্যক্রিয়া বন্ধ করতেই কড়া হাতে লাগাম ধরছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই অভিযোগ আসছে। কিন্তু চেষ্টা করেও স্থানীয় কিছু মাফিয়ার জন্য আমরা কিছু করতে পারছিলাম না। তাদের শায়েস্তা করতেই নয়া স্যান্ড মাইনিং পলিশি আনা হচ্ছে।
{link}
বালি সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক জিনিসের নিলাম করার দায়িত্ব এতদিন ছিল জেলাশাসকের ওপর। নয়া পলিশি অনুযায়ী, এখন সেই দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হচ্ছে মিনারেল মাইনিং বোর্ডের হাতে। গোটা বিষয়টি তদারকির ভার থাকবে মুখ্যসচিব ও অর্থ দফতরের সচিবের ওপর। নয়া নীতি ঘোষণার পাশাপাশি মমতা স্মরণ করিয়ে দেন, মনে রাখতে হবে স্থানীয় সম্পদ লুঠ করা যাবে না। বালি প্রাকৃতিক সম্পদ। রাজ্যের সম্পদ। মাটি-সুড়কি এগুলোও রাজ্যের সম্পদ। এগুলো লুঠ করা যাবে না। পুরো বিষয়টাই আমরা অনলাইনে করব, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। তিনি বলেন, আমরা শক্ত হাতে পুরো ব্যাপারটাকে ধরার চেষ্টা করছি। সাধারণ মানুষের জন্যও ফোন নম্বর দিয়ে দেওয়া হবে। যদি দেখেন, আপনার এলাকায় কেউ করে খাচ্ছে, নালিশ জানাতে পারেন। নালিশ জানালে সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবে না, সে যেই হোক না কেন।
অর্থাৎ একুশে বিধানসভা ভোটে জয়প্রাপ্তি হওয়ার পরেই নিজদের রাজ্যে দুর্নীতির অপবাদ ঘোচাতে উদ্যোগী হয়ে উঠেছে রাজ্য সরকার। এর পাশাপশি তারা রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতি মেটাতেও তৎপর। এর পিছনে বিরোধী শিবিরকে বাকরুদ্ধ করার চালও রয়েছে বলে মনে করছেন রাজ্যের রাজনীতিবিদদের একাংশ।
