ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, এই বিষয় প্রায় একশো শতাংশ নিশ্চিত। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কাকে দাঁড় করানো হবে? সেটাই হচ্ছে বড়ো প্রশ্ন। এই নিয়েই বর্তমানে চিন্তায় গেরুয়া শিবির। নন্দীগ্রামে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হারিয়েছেন’ বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এখন তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাই তাঁকে প্রার্থী করা হবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়। আবার বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে হেরে গিয়েছেন দাপুটে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাই তাঁকেও দাঁড় করানো হবে না। রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছেন রূপা ভট্টাচার্য। তাই তিনিও প্রার্থী হতে পারবেন না। সেই জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ওজনদার’ প্রার্থী খুঁজছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু কে হবেন প্রার্থী? প্রশ্ন এখানেই।
{link}
চলতি মাসের ৩০ তারিখে ভোট হবে ভবানীপুর সহ রাজ্যের তিন বিধানসভা আসনে। এর মধ্যে দুটি কেন্দ্রে হচ্ছে নির্বাচন। আর ভবানীপুরে হচ্ছে উপনির্বাচন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে চোখ ধাঁধানো ফল করে তৃণমূল। তবে নন্দীগ্রামে হেরে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই নির্বাচনে মমতার প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন তাঁরই পূর্বতন সতীর্থ বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ওই নির্বাচনে হাজার দুয়েক ভোটে ‘হেরে’ যান মমতা। ভোটের ফলে সন্তুষ্ট না হয়ে আদালতের শরণ নেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে বিচার চলছে ওই মামলার।
নিয়ম অনুযায়ী, মন্ত্রী পদে থাকতে গেলে ছ মাসের মধ্যে রাজ্যের কোনও একটি আসন থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে। সেই কারণেই ভবানীপুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন মমতা। ওই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলেরই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দলনেত্রী দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিধায়ক পদে ইস্তফা দেন তিনি।
{link}
তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে ওজনদার প্রার্থী খুঁজছেন গেরুয়া নেতৃত্ব। নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও যাতে তাঁকে হারানো যায়, সেই চেষ্টাই করছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধে পর্যন্তও তেমন জুতসই কাউকে খুঁজে পাননি তাঁরা। তাই তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে ঠিক কে প্রার্থী হবেন বিজেপির, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা দিন। একদিক থেকে একথা স্পষ্ট যে এই কেন্দ্রটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যথেষ্ট শক্তিশালী একটি কেন্দ্র, এবং বলা চলে এর থেকে বেশি আত্মবিশ্বাসী কেন্দ্র আর হয়ত সারা পশ্চিমবঙ্গে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। এখন কতো বেশি ভোটে তিনি জেতেন সেটাই দেখার বিষয় বলে মনে করছেন তৃণমূল কর্মীরা।
