প্রশাসনিক বৈঠকে মঞ্চে বসে থাকা অবস্থাতেই সকলের সামনেই প্রকাশ্যে মহুয়া মৈত্রকে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময়ে মহুয়াও মঞ্চেই বসে ছিলেন পিছনের সারিতে। এতে যে বেশ কিছুটা সম্মানহানি হয়েছে মহুয়ার তা স্পষ্ট। এবার তৃণমূলের মহুয়া মৈত্রের পাশে দাঁড়ালেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারি! বৃহস্পতিবার নদিয়ার প্রশাসনিক বৈঠকে ঘটে এই ঘটনা। তার জেরেই মহুয়ার পাশে দাঁড়ালেন শুভেন্দু।
বৃহস্পতিবার নদিয়ার প্রশাসনিক বৈঠকের শেষের দিকে মহুয়াকে একহাত নেন মমতা। বলেন মহুয়া, এখানে একটা স্পষ্ট মেসেজ দিতে চাই। কে কার পক্ষে-বিপক্ষে দেখার দরকার নেই। সাজিয়ে-গুছিয়ে লোক পাঠিয়ে ইউটিউবে বা ডিজিট্যালে দিয়ে দিলাম! এই রাজনীতি একদিন চলতে পারে, চিরদিন নয়। যখন নির্বাচন হবে, তখন দল ঠিক করবে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, কে নয়। সুতরাং এখানে কোনও মতপার্থক্য রাখা উচিত নয়। দৃশ্যতই ‘অপমানিত’ বোধ করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।
{link}
এই ঘটনার জেরেই মহুয়ার পাশে দাঁড়ান শুভেন্দু। কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রীর। বলেন, এই মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে আধিকারিক, জনপ্রতিনিধিদের অপমান করে নিজের ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন। আমার তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার পিছনে এটাও একটা অন্যতম কারণ ছিল। মানুষের আত্মসম্মান রয়েছে। লাইভ হচ্ছে, তাঁর পিতা-মাতা দেখছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কোনও বোধবুদ্ধি নেই।
মাস দুয়েকের মধ্যেই রাজ্যের বকেয়া ১১১টি পুরসভার ভোট। এর মধ্যে নদিয়ার কয়েকটি পুরসভাও রয়েছে। উপদলীয় কোন্দল যাতে ভোটের ফলে প্রভাব ফেলতে না পারে, সেজন্য এদিন মহুয়াকে ‘সতর্ক’ করে দেন মমতা। দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, তাও এদিন স্পষ্ট করে দেন তিনি। তবে এটা তিনি আলাদা করে সাংসদকে বলতেই পারতেন। স্থান-কালের কথা না ভেবেই মমতার এহেন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মহুয়ার ঘনিষ্ঠরা। তবে দলীয় নেতৃত্বের রোষানলে পড়ার ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তাঁরাও। এখন তাহলে কোন দিকে মোড় নিতে চলেছে পরিস্থিতি। ট্যুইট যুদ্ধে একসময় রাজ্যপালের মূল প্রতিপক্ষ ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কি অপমানিত মহুয়া দলবদলের মতো সিদ্ধান্ত নেবেন? প্রশ্ন উঠছেই।
.jpeg)
