সামনের চব্বিশের লড়াই যে জোরদার হতে চলেছে সেই কথা স্পষ্ট। বিরোধী জোট গঠনের সম্ভাবনাও ক্রমশ আরও জোরালো হয়ে উঠছে। কিন্তু কে হবেন সেই জোটের প্রধান মুখ? সেই ক্ষেত্রেও উঠছে একটা বড়ো প্রশ্নচিহ্ন। তবে রাহুল গান্ধি নন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিজেপি বিরোধী জোটের নেতা হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করল তৃণমূল! জোড়াফুল শিবিরের মুখপত্র জাগো বাংলায় এই বার্তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিজেপিকে হারাতে জোট হলেও, সেই জোটের নেতা হবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার পর তৃণমূলের লক্ষ্য দিল্লির কুর্সি। তবে একটি আঞ্চলিক দলের পক্ষে যে তা সম্ভব নয়, তা বুঝেই জোড়া পদক্ষেপ করছেন জোড়াফুল শিবিরের নেতারা। একদিকে যেমন দেশের বিভিন্ন প্রদেশে সংগঠন গড়ে সর্বভারতীয় দল হওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল, তেমনি অন্যদিকে দলীয় নেতৃত্ব সক্রিয় হয়েছেন বিজেপি বিরোধী ফ্রন্ট গড়তে। যার জেরে ত্রিপুরা, মধ্যপ্রদেশ সহ বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে তৃণমূলের সংগঠন, পার্টি অফিস। আবার ফ্রন্ট গড়তে প্রথমে তৃণমূলের তরফে ইলেকশন স্পেশালিস্ট প্রশান্ত কিশোর এবং পরে মমতা স্বয়ং দিল্লিতে একাধিকবার বিজেপি বিরোধী নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যার জেরে বিজেপি বিরোধী একটা ফ্রন্টের ধারণা দানা বাঁধে। কংগ্রেসের নেতৃত্বেই ওই ফ্রন্ট হবে বলেও গুঞ্জন ছড়ায়। কারণ, তৃণমূল নেত্রী স্বয়ং বৈঠক করেছেন সোনিয়া গান্ধি ও রাহুল গান্ধির সঙ্গে।
{link}
তবে ওই ফ্রন্টের মুখ মমতাই হবেন বলে দাবি করা হয়েছে তৃণমূলের মুখপত্রে। প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আমরা কখনওই বিজেপি বিরোধী বিকল্পের কথা বলছি না। কিন্তু রাহুল গান্ধি এখনও নরেন্দ্র মোদির বিকল্প মুখ হয়ে উঠতে পারেননি। দেশের বিকল্প মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা বিকল্প হিসেবে জননেত্রীর মুখ সামনে রেখেই গোটা দেশে প্রচার শুরু করব।
বাংলার একটা বড়ো অংশের রাজনীতিবিদদের মতামত এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই কংগ্রেসের সাথে জোরালো বিতর্ক বাঁধতে পারে ঘাসফুলের। শেষ পর্যন্ত কে পাবেন অগ্রাধিকার? আদৌ জোট সফল হবে তো?

