প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হলেও এখনও বিরোধী ঐক্য গড়ে ওঠা দিল্লির বুকে অথৈ জলেই পড়ে? বিরোধী শিবিরগুলির মধ্যে এখনও কি সেইভাবে যুক্তির মেলবন্ধন হয়ে ওঠেনি? এহেন একাধিক প্রশ্নই এখন দিল্লির রাজনৈতিক মহল জুড়ে। কারন? কারন জোটের সম্ভাবনার দুটি প্রধান মুখের সাক্ষাৎ ও আলোচনার বিড়ম্বনা।
তৃণমূল নেত্রীকে কি ইচ্ছে করেই এড়িয়ে যাচ্ছেন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার? মঙ্গলবার দিনভর এই জল্পনাই ঘুরপাক খেল দিল্লির রাজনৈতিক মহলে। কারণ দিন চারেক দিল্লিতে থাকলেও, এ যাত্রায় পাওয়ারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অথচ এই সাক্ষাতের কথা বহু আগে থেকেই জানিয়ের দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পর্যবেক্ষকদের মতে, আপাতত জল মাপার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাওয়ার।
{link}
বছর দুয়েক পরে সোমবার বিকেলে দিল্লি গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুদিন আগেই রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য বিপুল জনাদেশ নিয়ে নবান্নে ফেরেন তৃণমূল নেত্রী। তার পরে এই দিল্লি যাত্রা তাঁর। এই দফায় দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিজেপি-বিরোধী কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মমতা। ওই বৈঠকেই তৃতীয় ফ্রন্টের সলতে পাকানোর কাজ শুরু হবে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। এই দফার সফরে দিল্লিতে শরদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল মমতার। তবে সূত্রের খবর, আপাতত সেই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ, দিন চারেকের জন্য দিল্লিতে গিয়েছেন মমতা। অথচ পাওয়ার এখন দিল্লিতেই নেই। তিনি রয়েছেন মহারাষ্ট্রে। সেখানে প্রবল বন্যা। বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার কথা তাঁর। স্বাভাবিকভাবেই এই দফায় মমতা-পাওয়ার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আসলে পাওয়ার এই মুহুর্তে মমতার সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী নন। তিনি তাকিয়ে রয়েছেন মমতা-সনিয়া বৈঠকের দিকে। কারণ কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া যে তৃতীয় ফ্রন্ট দানা বাঁধবে না, তা ভালোই জানেন পাওয়ার। সেই কারণেই সম্ভবত এ যাত্রায় মমতাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন বর্ষীয়ান এনসিপি নেতা। আবার অন্যদিকে একইভাবে এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রে বন্যা কবলিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ন বলে মনে করতে পারেন তিনি। সেই ক্ষেত্রে এই দুই সম্ভাবনাতেই জোর রয়েছে। এখন ভবিষ্যতে জল কোনদিকে গড়াই সেই দিকেই লক্ষ্য থাকবে সাধারন মানুষের। আদৌ জোট গড়ে উঠবে তো?
