হঠাৎ কি হল আবার? কেন যে এরম বললেন তা নিয়ে দ্বন্দ্বে রাজ্যের শাসক শিবির। তৃণমূলে ভালো নেই মুকুল রায়! অন্তত শুক্রবার তাঁর করা মন্তব্যের পর এই জল্পনাই ছড়িয়েছে বলেই সূত্রের খবর। তৃণমূলের একটি অসমর্থিত সূত্রে খবর, মুকুলের কোনও চেয়ার নেই। তাই সেই অর্থে পুরানো দলে ফিরেও জুত পাচ্ছেন না একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড!
এক সময় তৃণমূলে দলনেত্রীর পরের আসনটি ছিল মুকুলের জন্য পাতা। প্রায় ২০ বছর তৃণমূল করার পরে ২০১৭ সালে মুকুল যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। পরে বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ছেলে শুভ্রাংশুও আশ্রয় নিয়েছিলেন গেরুয়া- নিশান-তলে। পরে মোহভঙ্গ হওয়ায় মাস দেড়েক আগে ছেলেকে নিয়ে তৃণমূলে ফেরেন মুকুল। এখানেই ঘরওয়াপসির পর তার গতকালের মন্তব্যে ফের জলঘোলা বেড়েছে রাজ্যে।
{link}
মুকুল দল ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন খালি ছিল তাঁর চেয়ার। সম্প্রতি ওই চেয়ারে বসানো হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার পর থেকে মুকুল কার্যত ‘চেয়ারহীন’, এমতাবস্থায় তাঁর পক্ষে ‘জুনিয়রদের অধীনে’ কাজ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে। তৃণমূলের ওই সূত্রের কথায়, সেই কারণেই শুক্রবার বেফাঁস মন্তব্য করেন মুকুল। এদিন দলের কাজে কৃষ্ণনগরের বেলডাঙায় গিয়েছিলেন মুকুল। সেখানে দলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা নেওয়ার পর মুকুল বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে আমি বলতে পারি তৃণমূল কংগ্রেস পর্যুদস্ত হবে। এখানে ভারতীয় জনতা পার্টি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে। এর পর নিজেকে সামলে নিয়ে মুকুল বলেন, এখানে তৃণমূল কংগ্রেস নিজের ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে। বিজেপির অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যাবে না। উপনির্বাচনে সাধারণ মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবে। বিজেপি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে। দল একে মুকুলের স্লিপ অফ টাং হিসেবেই দেখছে। তবে বিরুদ্ধ মতও রয়েছে। হতে পারে পদ না পাওয়ার আক্ষেপ!
এখন তিনি ঠিক কি কারনে হুঁশে থেকেই হোক কিংবা বেহুঁশেই হোক হঠাৎ কেন এই মন্তব্য করলেন মুকুল সেই নিয়েই ধোঁয়াশা কাটছেনা রাজ্য রাজনীতিতে। যদিও এর পিছনে স্ত্রী বিয়োগের একটা প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছে রাজ্যের শাসক শিবির। এখন কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক সেটা নির্ধারন করতেই ব্যাস্ত সকলে।
