কয়েক দিন আগেই গঠিত হয়েছে রাজ্য সরকার। বিপুল জিতে ক্ষমতায় ফিরেছে ঘাসফুল শিবির। বিধানসভায় মুকুল রায় লড়াই করেছিলেন বিরোধী শিবির বিজেপির হয়েই। কিন্তু ভোট মিটে যাওয়ার পরেই তিনি যোগদান করেন শাসক শিবিরে। সেই মুকুল রায়কে কীভাবে পিএসির চেয়ারম্যান করা হল? বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তা জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ১২ অগষ্টের মধ্যে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে।
{link}
২০১৭ সালে পুজোর আগে আগে তৃণমূল ছেড়ে দেন মুকুল রায়। পরে যোগ দেন বিজেপিতে। একুশের বিধানসভা ভোটে বিপর্যয় হয় বিজেপির। এর পরেই ছেলে শুভ্রাংশুকে নিয়ে তৃণমূলে ফেলেন মুকুল। বিধায়ক পদে ইস্তফা না দেওয়ায় খাতায়-কলমে মুকুল রয়ে যান বিজেপিরই। মুকুল যেদিন তৃণমূলে যোগ দেন, সেদিন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেওছিলেন সেকথা।
{link}
এহেন মুকুলকে দলবদলের ‘পুরস্কার’ দিতে পিএসির চেয়ারম্যান পদে বসিয়ে দেয় তৃণমূল। প্রথা অনুযায়ী, পিএসির চেয়ারম্যান পদে বসানো হয় বিরোধী দলের কাউকে। এবং সেটি করেন স্পিকার নিজেই। যেহেতু মুকুল বিধায়ক পদে ইস্তফা দেননি, সেই অজুহাতে তাঁকেই বসিয়ে দেওয়া হয় পিএসির চেয়ারম্যান পদে। এরই প্রতিবাদে স্পিকারের অভিযোগ জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এ নিয়ে প্রথমে এক প্রস্ত শুনানিও হয়। দিন কয়েক আগে বিধানসভায় হয়েছে দ্বিতীয় দফার শুনানি। বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি পরিষদীয় দল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যসভায় ওপেন ব্যালটে ভোট দিলে অন্য রাজ্যে অভিযোগ করতে হয় না। পরের দিনই বিধায়ক পদ বাতিল হয়ে যায়। এ রাজ্যে গত ১০ বছরে একটাও দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাতে শুনানির নিষ্পত্তি হয়, সেজন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়ার চিন্তাভাবনা করেছি। অগষ্ট মাসেই এটা করব। তবে এদিন হাইকোর্ট যে রায় দেয়, তা বিধায়ক বিজেপির অম্বিকা রায়ের করা জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে। সেই মামলায় এবার স্পিকারের হলফনামা তলব করলেন বিচারপতি। এখন পিএসির চেয়ারম্যান পদে মুকুল বাবু আদৌ অধিষ্ঠান করতে সক্ষম হন কি না, সেই নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
