একদিকে যখন শাসক শিবির তৃণমূলের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে কলকাতা পুরসভা ভোট করানোর অভিযোগ সমস্ত বিরোধী শিবিরদের, তখনই রাজ্যে প্রকাশ্যে এলো বেনজির এক ছবি। তৃণমূলের পঞ্চায়েত বোর্ডের প্রধান বিজেপির! উপপ্রধান সিপিএমের! নজিরবিহীন ওই ঘটনায় সাড়া পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কার্যত চোখ কপালে উঠেছে রাজনৈতিক মহলেরও। ঘটনার জেরে বেজায় অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব। এই প্রসঙ্গে স্পিকটি নট মালদহ জেলা তৃণমূল।
{link}
মালদহের রতুয়ার মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের রশি রয়েছে তৃণমূলের হাতে। এলাকার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। তিনি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যানও বটে। এই পঞ্চায়েতেই দুর্নীতির অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রধান ও উপপ্রধানকে। যাঁরা সরিয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের সদস্য। স্বদলের সদস্যদের অনাস্থায় গদি হারান প্রধান ও উপপ্রধান। প্রধান পদে বসানো হয় বিজেপির টিকিটে জেতা কৃষ্ণা সাহাকে। আর উপপ্রধানের পদ অলঙ্কৃত করেন সিপিএমের টিকিটে জেতা লুতফুরনেশা। অপসারিত ওই প্রধান ও উপপ্রধানের অভিযোগ, স্থানীয় নেতৃত্বের ষড়যন্ত্রেই পদ খোয়াতে হয়েছে তাঁদের।
{link}
২০১৮য় পঞ্চায়েত ভোটে এই জেলায় ৩৪ শতাংশের কাছাকাছি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিল রাজ্যের শাসক দল। তবে মহানন্দাটোলা পঞ্চায়েতে ভোট হয়েছিল। ১৭টি আসনের মধ্যে তিনটি পায় তৃণমূল। নির্দল পায় ৮টি আসন। বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিএম পেয়েছিল দুটি করে আসন। তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শুভেন্দু অধিকারির উপস্থিতিতে নির্দল সহ বিরোধী অধিকাংশ সদস্য যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। ১৪ জনের সমর্থন নিয়ে বোর্ড গড়ে তৃণমূল। প্রধান করা হয়েছিল কিরণ মাঝিকে। উপপ্রধানের পদে বসানো হয়েছিল ফিরদৌসী বেগমকে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরানো হয়েছে তাঁদেরই। তাঁদেরই স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বিজেপি এবং সিপিএমের সদস্য।
যদিও একদিক থেকে রাজনৈতিক সৌজন্যতার ছবির প্রমান দিচ্ছে এই ছবি, তবুও রাজ্যের শাসক শিবির এই নিয়ে বেজায় অস্বস্তিতে। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া আসেনি শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকেও। এবং এই প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করেনি মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসও।
