তার হাত ধরেই বিজেপির সমস্ত তাবড় তাবড় রাজনীতিবিদদের পরিকল্পনাকে ধুলোয় মিশিয়ে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল অঙ্কে জয়লাভ করেছে তৃণমূল। সেই ইলেকশন স্পেশালিস্ট প্রশান্ত কিশোর ওরফে পিকের সঙ্গে কি দূরত্ব বাড়ছে তৃণমূলের? অন্তত তেমনি জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। জল্পনার কারণ একটি খবর। খবরটি হল, কলকাতা পুরভোটের আগে দলের স্ট্র্যাটেজি কিংবা প্রার্থী তালিকা নিয়ে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মানেনি তৃণমূল। যদিও পিকের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার কথা অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। কিন্তু তার পরামর্শ না মেনেও পুরসভা নির্বাচনে বড়ো অঙ্কেই একতরফা জয় লাভ করেছে তৃণমূল।
{link}
উনিশের লোকসভা নির্বাচনে ফল খারাপ করে তৃণমূল। একলপ্তে গেরুয়া শিবিরের আসন ২ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮। এর পরেই ডাক পড়ে পিকের। নেপথ্যে থেকে তৃণমূলের হাল ধরেন এই ইলেকশন স্পেশালিস্ট। তাঁর পরামর্শ মতো দিদিকে বলো, প্রতিমাসে পাঁচশো টাকা করে মহিলাদের ভাতা, দুয়ারে সরকার সহ নানা জনপ্রিয় প্রকল্পের কথা ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। তাতেই হয় বাজিমাত। লোকসভা নির্বাচনে যে তৃণমূল মুখ থুবড়ে পড়েছিল, সেই দলই একুশের বিধানসভা ভোটে প্রথম দফায় ২১৩টি আসন ছিনিয়ে নেয়। নন্দীগ্রামে হারলেও, ভবানীপুর উপনির্বাচনে তৃণমূল নেত্রী জয়ী হন প্রায় ৫৮ হাজার ভোটে। মুর্শিদাবাদেও ঘাসফুল ফোটে। পুরো কৃতিত্ব গিয়ে পড়ে পিকের ওপর।
{link}
কলকাতা পুরসভা ভোটে তৃণমূলকে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাইয়ে দেওয়াও একটা চ্যালেঞ্জ ছিল পিকের কাছে। সেই কারণে পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ড ধরে ধরে সার্ভে করে টিম পিকে। প্রত্যেক কাউন্সিলরের সম্পর্কে মানুষের মতামত নেওয়া হয়। তার ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হয়েছে বিদায়ী কাউন্সিলরদের অনেককেই।
সূত্রের খবর, তবে পিকের ওই রিপোর্ট গ্রহণ করেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর দেওয়া পরামর্শও মানেননি তাঁরা। তৃণমূলের একটি অসমর্থিত সূত্রের খবর, পিকের সঙ্গে ক্রমেই দূরত্ব বাড়ছে তৃণমূলের। তবে আপাতত দলের সঙ্গে তাঁর চুক্তিভঙ্গ হচ্ছে না। কিন্তু আসন্ন কেন্দ্রের চব্বিশের লড়াইয়ে পিকের পরিকল্পনাই ভরসা তৃণমূলের। সেইভাবে দূরত্ব যদি সত্যিই বাড়ে, তবে তা বাস্তবিক ভাবেই দলের কাছে চিন্তার বিষয় বইকি।

