একসময় কার্যত রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুলে বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে যোগদান করেছিলেন বিজেপিতে। ছিলেন তৃণমূলে কার্যত অন্যতম সুপরিচিত এক নেতৃত্ব। কিন্তু বিজেপিতে যোগদান করেই কাল হল। জয় এলোনা, তার বদলে এলো পরাজয়ের গ্লানি। সেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত এখন দুয়ারে! তবে এখনই দরজা খুলছে না তাঁর জন্য। তৃণমূলের একটি সূত্রেই এই খবর মিলেছে। হাওড়ার নেতারা না চাইলে এখনই রাজীবকে ফিরিয়ে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলতে চান না তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। যদিও বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেই আশার আলো দেখতে শুরু করেছিলেন রাজীব। ফের একপ্রস্ত তৃণমূল নেত্রীর স্তুতি করে মুন্ডপাত করেছেন বিজেপির!
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। চাটার্ড ফ্লাইটে দিল্লি গিয়ে হাতে তুলে নেন গেরুয়া ঝান্ডা। ডোমজুড়ে কেন্দ্রেই পদ্ম চিহ্নে প্রার্থী হন রাজীব। তবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ডোমজুড়ে বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি স্বচ্ছ ব্যক্তিত্বের এই রাজনীতিক। প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূল প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি। এর পরেই তৃণমূলে ফিরতে উদ্যোগী হন রাজীব। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের সুকিয়া স্ট্রিটের বাড়িতে ছুটে যান। মাতৃবিয়োগ হওয়ার পর মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছিলেন সমবেদনা জানাতে। তার পরেও তৃণমূলের দরজা বন্ধ রয়েছে রাজীবের জন্য।
{link}
দিন কয়েক আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। এর পর ফের আশার আলো দেখতে শুরু করেন রাজীব। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই বিজেপির সমালোচনা করে মমতা-ভজনা করতে শুরু করেন ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ভোটের প্রচারে বিভেদের রাজনীতি করছে বিজেপি। ধর্মীয় বিভাজনকে ভালো চোখে দেখেননি বাংলার মানুষ। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে বাংলার মানুষ ২১৩টি আসন দিয়েছে, তাঁকে বেগম, খালা, ফুফু বলা শোভনীয় হয়নি।
তৃণমূলের একটি সূত্রের খবর, রাজীবের মমতা-ভজনায়ও এখনই ভিজছে না চিঁড়ে। রাজীব দুয়ারে এলেও কালীঘাটের দরজা এখনই তাঁর জন্য খুলছে না হাট করে। আরও কতদিন অপেক্ষার প্রহর গুণতে হবে রাজীবকে? প্রশ্ন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলেই। উপরন্তু তিনি দলে ফিরলেও তার সেই পুরোনো সন্মান আর ফিরে পাবেন কি? ডোমজুড়ের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা, যাদের কাছে তিনি একসময় নয়নের মনি ছিলেন আজ তাদের কাছেই হয়ে উঠেছেন চক্ষুশূল। তার ফেরার কথা উঠলেই চলছে বিক্ষোভ। সেই কারনেই আরও কঠিন হচ্ছে তার ফেরার রাস্তা।
