একসময় দুজনেই রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন ঘাসফুল শিবির থেকে। তারপর আবার একে একে দুজনেই ভিড়েছিলেন বিজেপির শিবিরেও। আবার শেষ পর্যন্ত বর্তমান সময়ে একজন বিজেপিতে থেকেও বেসুরো গান গাইছিলেন, আর দ্বিতীয়জন ফের ফিরেছেন ঘাসফুল শিবিরে। কথা হচ্ছে সৌমিত্র খাঁ ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়ে। মন্ত্রিত্ব না পেয়ে দলের প্রতি গোঁসা হয়েছিল, তবে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ঘুরে তৃণমূলে ফেরায় তাঁকে তীব্র আক্রমণ করলেন গেরুয়া নেতা সৌমিত্র খাঁ। প্রাক্তন সহকর্মীকে সেরেল্যাক খাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, রাজীবকে আক্রমণ করে ‘পাপের প্রায়শ্চিত্ত’ করছেন সৌমিত্র!
{link}
মাস দশেক আগে ছেড়ে গিয়েছিলেন তৃণমূল। বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হওয়ায় ফিরলেন জোড়াফুল শিবিরে। সুদূর ত্রিপুরায় গিয়ে জোড়াফুলের খাতায় নাম লেখালেন ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ফেসবুক লাইভে তাঁকে নিশানা করেন বিজেপি নেতা তথা বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, রাজীববাবু আপনাকে বলি, আপনি তো উপমুখ্যমন্ত্রী হতে দলে এসেছিলেন। মমতা আপনাকে ভাল জায়গা দিয়েছিলেন কয়েকটা, কিন্তু আপনার পোষালো না। আপনি তো বিজনেসম্যান। বিজনেস করতে এসেছেন পঞ্চান্ন বছর বয়সে আপনি এতটাই শিশু যে বুঝতেই পারেননি দল ক্ষমতায় আসবে কিনা! তাই আপনাকে ভুল বুঝিয়ে দলে আনা সম্ভব হয়েছিল। তা ভাল...আপনি বরং মাঝেমধ্যে সেরেল্যাক খাওয়া অভ্যাস করুন।
{link}
সৌমিত্র বলেন, আপনি নিজেকে এত বড় নেতা ভেবেছিলেন যে বাংলা থেকে নয়, সুদূর ত্রিপুরায় গিয়ে আপনাকে তৃণমূলে যোগদান করতে হল। উপমুখ্যমন্ত্রী হতে না পেরে ফিরে যেতে হল আপনাকে। ভাল হয়েছে আপনি গিয়েছেন। আসলে বাংলার রাজনীতিটা তো এখন বিজনেস হয়ে গিয়েছে। সেখানে আপনার মতো বিজনেসম্যানেরা কোনও আদর্শের ধার ধারেন না। আজ এখানে তো কাল ওখানে চলে যান। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে সৌমিত্র বলেন, আপনাদের অনুরোধ, সৌজন্যের রাজনীতি করুন। যদিও মিত্র দল ছাড়ায় কিছুটা হলেও যে মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন সে কথাও কিছুটা হলেও বোঝা যাচ্ছে। রাজনীতি তো, এখানে অবাক হওয়ার মতো কিছু নাই! যা হবে শুধুই দেখতে থাকুন!

