গতকাল সৌমেন মহাপাত্রের মন্তব্যে কার্যত উত্তাল হয়ে উঠেছিল বঙ্গ রাজনৈতিক মহল। হঠাতই তিনি মন্তব্য করেন, শুভেন্দু নাকি তৃণমূলে ফিরতে চলেছেন। কিন্তু কেন হঠাৎ এহেন মন্তব্য করলেন তিনি? এ ব্যাপারে বিজেপির কিংবা বলা চলে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ মহলের যুক্তি, টলতে বসেছে সৌমেন মহাপাত্রের আসন! তাই শুভেন্দু তৃণমূলে ফিরছেন বলে হাওয়া গরম করতে চেয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ট মহলের মতে, এভাবেই গোষ্ঠীকোন্দল থেকে তৃণমূল নেত্রীর অভিমুখ ঘোরাতে চেয়েছেন তিনি।
{link}
এক সময় অবিভক্ত মেদিনীপুরের একছত্র অধিপতি ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তখন তিনি তৃণমূল নেতা। পরে জেলায় শুভেন্দুর প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ান তৃণমূলেরই অখিল গিরি। জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, এই সময় অখিলের পাশে থাকতেন সৌমেন মহাপাত্র। তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে মনান্তরের জেরে গত ডিসেম্বরে জোড়াফুল শিবির ছাড়েন শুভেন্দু।
এর পরেই বদলে যায় জেলা তৃণমূলের সমীকরণ। মন্ত্রিসভা গঠিত হতেই ঠাঁই হয় সৌমেনের। এর পরেই গড়ে ওঠে সৌমেনের নিজস্ব লবি। শুরু হয়ে যায় অখিলের সঙ্গে সৌমেন লবির দ্বন্দ্ব। জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, অখিল-সৌমেনের এই দ্বন্দ্বের খবর পৌঁছায় তৃণমূল নেত্রীর কানেও। তার পরেই ‘হাওয়া ঘোরানো’র প্রয়োজন হয় সৌমেনের। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠদের মতে, সেই কারণেই সৌমেন রবিবার শুভেন্দু সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর মন্তব্যটি করেছিলেন। নন্দীগ্রামের সীতানন্দ কলেজ মাঠের এক জনসভায় সৌমেন বলেন, বিরোধী দলনেতার লালবাতি নিভছে কিছুদিনের মধ্যেই। তিনি তৃণমূলে ভিড়তে পারেন। আর তা শুধু সময়ের অপেক্ষা। সৌমেনের এহেন মন্তব্যে চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজনৈতিক মহলে।
{link}
সৌমেনের বক্তব্য পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, সৌমেন অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ছিলেন। তাই বোধহয় এহেন মন্তব্য করেছেন। বিরোধী দলনেতার তকমা, তার উপর বিজেপির মতো এহেন দলে রাজ্যে এতো সম্মান ও গুরুত্বপূর্ন পদ, কেনই বা নিজ পায়ে কুড়ুল মারতে যাবেন তিনি। যদিও যে ভাবে এখন আবার পালে প্রত্যাবর্তনের হাওয়া লেগেছে, কে যে কোনদিকে ঘুরতে চলেছেন, তা বলা কঠিন।
