তৃণমূল থেকে মমতা ব্যানার্জির ছায়া ছেড়ে বিজেপিতে জগ দিয়েছিলেন ২০২১ নির্বাচনের কিছুদিন আগেই। নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জি বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জয়ও পেয়েছেন। তারপর থেকেই বিজেপিতে ক্রমেই গুরুত্ব বাড়ছে শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর হাত ধরেই ফের ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির অন্দরেও আপাতত কেবলই শনা যাচ্ছে শুভেন্দু-স্তুতি। দলের নিচুতলার কর্মীরাও শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্রই নেতা-কর্মী-সমর্থকরা খুঁজে বেড়াচ্ছেন শুভেন্দুকে।
{link}
২০২১এর বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন তাঁরই পূর্বতন সতীর্থ বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ওই নির্বাচনে হাজার দুয়েক ভোটে হেরে যান মমতা ব্যানার্জি। ফলে সন্তুষ্ট না হয়ে হন আদালতের দ্বারস্থ তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে বিচার চলছে ওই মামলার। মমতাকে হারানোর পরে জায়েন্ট কিলারের তকমা পান শুভেন্দু। কার্যত তার পর থেকে বিজেপিতে ক্রমেই গুরুত্ব বাড়তে থাকে শুভেন্দুর। দিল্লির পাশাপাশি দলের রাজ্য নেতৃত্বও ভরসা করতে শুরু করেন শুভেন্দুর ওপর। তাঁর স্তুতি শুরু হয়ে যায় দলেই। বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, একমাত্র শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া আর যেসব নেতা বিজেপিতে এসেছেন, তাঁরা সবাই অযোগ্য।
{link}
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বিজেপি নেতাদের মধ্যে শুভেন্দুবাবুর গুরুত্ব তুঙ্গে। সূত্রের খবর, চলতি মাসেই উত্তরবঙ্গ সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার আগেই উত্তরবঙ্গ সফরে পাঠানো হচ্ছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুকে। দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরে ফল ভালো হয়েছে বিজেপির। তাই সেখানকার রাশ যাতে কোনওভাবেই আলগা না হয়, সেজন্যই শুভেন্দুকে উত্তরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত। তৃণমূলে থাকাকালীন শুভেন্দুর হাতে ন্যস্ত ছিল উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার দায়িত্ব। তাঁর সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই বিরোধী দলনেতাকে উত্তরবঙ্গে পাঠানোর সিদ্ধান্ত। বিজেপি সূত্রের খবর, আজ, বুধবার শুভেন্দু শিলিগুড়িতে দলের ২৯ বিধায়ক এবং সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। চাঙা করার চেষ্টা করবেন দলের হতাশ হওয়া কর্মীদেরও। শুভেন্দুর অধিকারী কতটা পদ্মফুলের শ্রীবৃদ্ধি কতটা হয়, এখন সেটাই দেখবার।
