বিধানসভায় নন্দীগ্রামে বড়ো জয়, তাও আবার বর্তমানে বঙ্গের সর্বাধিক শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের বিরুদ্ধে। তারপরে বর্তমানে হয়ে উঠেছেন রাজ্যের বিরোধী দলের দলনেতা। এরপর আবারও জয় পেলেন তিনি। আদালতে বড় জয় পেলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর অনুমতি পেল তাঁর ক্লাব কাঁথি রিক্রিয়েশন ক্লাব। বৃহস্পতিবার আদালত ওই অনুমতি দেয়। ঘটনার জেরে যারপরনাই খুশি ক্লাবের সদস্যরা।
গত ২২ বছর ধরে কাঁথি শহরের একটি জায়গায় দুর্গাপুজো করে আসছে কাঁথি রিক্রিয়েশন ক্লাব। জাঁকজমক করে পুজো করে এই ক্লাব। দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন আসেন এই ক্লাবের পুজো দেখতে। শুভেন্দু এই ক্লাবের সভাপতি। এতদিন কোনও সমস্যা ছিল না। গত ডিসেম্বরে তৃণমূলে যোগ দেন শুভেন্দু। এ বছর পুজোর অনুমতি দিয়েও সেচ দফতর ফিরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। এর পরেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ক্লাব কর্তারা।
{link}
বুধবার মামলাটি হাইকোর্টে ওঠে। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি কেশনঙ ডোমা ভুটিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ একজন স্পেশাল অফিসার নিযুক্ত করেন। আদালত জানায় ওই অফিসার পুজোর জায়গা খতিয়ে দেখবেন। তাঁর দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই মতো পুজোস্থল ঘুরে দেখেন ওই অফিসার। রিপোর্ট দেন আদালতে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই পুজোর ছাড়পত্র দেয় আদালত।
ক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, সেচ দফতরের তরফে তাঁদের বলা হয়েছিল শুভেন্দুকে সভাপতির পদ থেকে সরালে তবেই মিলবে অনুমতি। ক্লাবের কোনও সদস্যই তাতে রাজি হননি। তাঁদের যুক্তি ছিল, কোনও কারণ ছাড়াই শুভেন্দুকে সরানো যায় না। শুভেন্দুকে সরাতে হলে ক্লাবের পরবর্তী সাধারণ সভা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ক্লাবের সদস্যদের অভিযোগ, শুভেন্দু দল বদল করাতেই সেচ দফতর পুজোর অনুমতি দিয়েও তা ফিরিয়ে নিয়েছে। এর পরেই আদালতের দ্বারস্থ হন পুজোর উদ্যোক্তারা। শেষ পর্যন্ত মেলে লড়াইয়ের ফল, আদালত মান্যতা দিল পুজোকে।
{link}
রাজ্যের এক অংশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রাজ্যের শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে আরও একবার রূখে দাঁড়িয়ে জয়ী হয়ে দেখিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পুজো-র ক্ষেত্রে বাঁধাপ্রদান করাটা অনেকেই ভালো চোখে দেখছিলেন না। সেই দিক থেকে মা আসছেন, সেটাই এখন আনন্দের বিষয় কাঁথির মানুষজনের ও ওই ক্লাবের সদস্যদের কাছ।
