শুভেন্দুর পর এবার অবশেষে বিজেপিতে চললেন দিব্যেন্দু অধিকারী? আজ, বৃহস্পতিবার দিনভর এই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজার চেষ্টা চল বঙ্গের রাজনৈতিক মহলে। জল্পনার কারণ? কারন মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দুর ভাই তমলুকের সাংসদ তৃণমূলের দিব্যেন্দু। দুজনের মধ্যে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা জানানো হয়নি দিব্যেন্দু কিংবা প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে।
{link}
কাঁথি শহরের শান্তিকুঞ্জ নামের বাড়িটির মালিক শিশির অধিকারী। শিশিরের চার ছেলে হলেও, রাজনীতি করেন তিনজন। মেজ শুভেন্দু, তার ভাই দিব্যেন্দু এবং ছোট ভাই সৌমেন্দু। এক সময় এই পরিবারটি জেলা তৃণমূলের ভরকেন্দ্র ছিল। কাঁথির এলাকায় আলাদা দাপট ছিল এই রাজনৈতিক পরিবারের। এই বাড়ির মেজ ছেলে শুভেন্দুর ওপরই দায়িত্ব ছিল পড়শি দুই জেলার দায়িত্ব। পড়শি দুই দেলার ঘাসফুলের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ ছিলেন তিনি। কিন্তু অঘটন ঘটে বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে।
গত ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। একুশের ভোটের আগে ঘাসফুল শিবির ছেড়ে গেরুয়া খাতায় নাম লেখান সৌমেন্দু। পরে কাঁথি শহরের এক জনসভায় অমিত শাহের সভায় যোগ দেন শিশির। পরিবারের সিংহভাগ সদস্য ঘাসফুল-সঙ্গ ত্যাগ করলেও, দিব্যেন্দু কিন্তু তৃণমূল ছাড়েননি।
তবে অধিকারী পরিবারকে উচিত শিক্ষা দিতে ওই পরিবারের বিরোধী হিসেবে পরিচিত অখিল গিরিকে মন্ত্রী করে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিব্যেন্দু তৃণমূলে থাকলেও, তাঁকে উপেক্ষা করতে শুরু করেন সবুজ নেতৃত্ব। তার পর এই খবরে এলেন দিব্যেন্দু। এবং এলেন, কারণ তৃণমূলে থাকলেও, মঙ্গলবার গভীর রাতে তিনি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।
{link}
বিজেপিতে ক্রমেই গুরুত্ব বাড়ছে শুভেন্দুর। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিব্যেন্দুর একান্ত সাক্ষাৎকারে সিঁদুরে মেঘ দেখছে তৃণমূল। দিব্যেন্দু কি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, প্রশ্নটা ঘাসফুল শিবিরেরও। এখন দাঁড়িপাল্লার কোন দিকে পাল্লা বেশি ভারি হয় সেই প্রশ্নের উত্তর জানতেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রাজ্য রাজনৈতিক মহল।
