আসন্ন চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের ঘুঁটি এখন থেকেই সাজাতে শুরু করল গেরুয়া শিবির। ইঙ্গিত মিলেছে সেহেন পদক্ষেপেরই, রাতারাতি দায়িত্ব বাড়িয়ে দেওয়া হল প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষের। বিজেপির জাতীয় স্তরের মুখপাত্র করা হল তাঁকে। রবিবারই তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে পদ্ম শিবিরের তরফে। এবার থেকে কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠনের তরফে নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। অর্থাৎ এবার থেকে কেন্দ্রীয় স্তরেও দায়িত্ব বাড়ল এই প্রাক্তন পুলিশ অফিসারের।
{link}
এক সময় তিনি ছিলেন আইপিএস অফিসার। দাপিয়ে বেড়িয়েছেন জঙ্গলমহল। মাওবাদীদের কাছে আক্ষরিক অর্থেই ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন। এহেন ভারতী প্রত্যাশিতভাবেই ছিলেন তৃণমূল নেত্রীর পছন্দের আইপিএস। জঙ্গলমহলের একটি অনুষ্ঠানে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জঙ্গলমহলের মা বলেও অভিহিত করেছিলেন। যার জেরে বিতর্ক কিছু কম হয়নি।
{link}
পরে কোনও কারণে তৃণমূল নেত্রীর বিরাগভাজন হন ভারতী। তার পর আচমকাই একদিন চাকরি ছেড়ে দেন। যোগ দেন বিজেপিতে। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে ঘাটালে তৃণমূল প্রার্থী দেবের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হন তিনি। প্রচারে ঝড় তুললেও শেষ রক্ষা হয়নি। বাংলার সিনেমা জগতের খ্যাতনামা নায়কের কাছে ধরাশায়ী হন ভারতী। তার পরেও প্রাক্তন আইপিএস ভারতীর ওপর আস্থা হারায়নি দল। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ডেবরায় বিজেপির প্রার্থী হন তিনি। তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ আর এক প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ূন কবীর। এবারও জোড়াফুল প্রার্থীর কাছে হার মানেন পদ্ম প্রার্থী। ভোটের ফল বের হওয়ার পর আর সেভাবে ভারতীকে দেখা যায়নি। ভবানীপুর উপনির্বাচনেও প্রচারে দেখা যায়নি তাঁকে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছিল, তবে কি রাজনীতি ছাড়ছেন ভারতী, নাকি আবার উল্টো পথে পা বাড়াচ্ছেন ঘাসফুল শিবিরের দিকে? এতদিন পর এবার ফের একবার সংবাদ শিরোনামে ভারতী। কার্যত বাংলার রাজনীতিবিদদের চমকে দিয়ে তিনি এখন বিজেপির জাতীয় স্তরের মুখপাত্র। এখন দেখা যাক দলের দেওয়া এই দায়িত্ব কতটা সাফল্যের সাথে পালন করতে সক্ষম হন তিনি।
