বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল অঙ্কে জয়লাভ করার পর মাস পাঁচেকের ব্যবধানে সেইভাবে কোনও সোনা ফলেনি রাজ্যে! এমন কোনও শিল্প গড়ে ওঠেনি, যেখানে হাজার হাজার ছেলেমেয়ের কাজ হয়েছে! সরকারি কোনও ক্ষেত্রে কয়েক হাজার ছেলেমেয়ের কাজের সংস্থানও হয়নি! হয়েছে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প, স্বাস্থ্য সাথী ও লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের কাজ। কিন্তু তাতেও ঝামেলা ও গোল বেঁধেছে বিস্তর। তার পরেও রাজ্যের চার কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। প্রশ্ন হল, কোন যাদুতে হল এমনটা?
{link}
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারের দিনহাটা এবং নদিয়ার শান্তিপুর এই দুটি আসনেই জয়ী হন পদ্ম-প্রার্থীরা। দিনহাটায় জয়ী হন বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক। আর শান্তিপুরে জগন্নাথ সরকার। উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থীরা। খড়দহে কাজল সিনহা এবং গোসাবায় জয়ন্ত নস্কর ধরাশায়ী করেছিলেন বিজেপি প্রার্থীদের। নিশীথ এবং জগন্নাথ ইস্তফা দেন বিধায়ক পদে। আর কাজল ও জয়ন্তের অকাল মৃত্যু হয়। তার জেরে উপনির্বাচন হয় রাজ্যের ওই চার কেন্দ্রে।
চার কেন্দ্রেই বিপুল ভোটে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থীরা। সচরাচর উপনির্বাচনে জয়ী হন শাসক দলের প্রার্থীরাই। এক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। তবে তার পরেও রয়েছে ম্যাজিক। সে ম্যাজিকের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়ে ধরাশায়ী হন মমতা। স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী হেরে যাওয়ার কিছুটা হতাশ হন তৃণমূল নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জেতেন মমতা। তারপরেই বাড়তি অক্সিজেন পেয়ে যায় তৃণমূল। চার কেন্দ্রই তৃণমূল নেত্রীকে উপহার দিতে কোমর কষে নামেন তাঁরা। তারই সুফল পেয়েছেন ওই চার কেন্দ্রের প্রার্থীরা।
{link}
আরও একটি কারণ রয়েছে। সেটি হল, লক্ষ্মীর ভান্ডার। ইতিমধ্যেই এই ভান্ডারে ৫০০ টাকা করে পেতে শুরু করেছেন গৃহলক্ষ্মীরা। এসসি, এসটিরা পাচ্ছেন হাজার টাকা করে। দুয়ারে রেশন প্রকল্প নিয়েই হইচই হয়েছে বিস্তর। তবে ওই প্রকল্প যে বাস্তবায়িত হতে চলেছে, সংবাদ মাধ্যম মারফত সে খবর পেয়েছেন রাজ্যবাসী। এসব কারণেই ক্রমেই মমতার ওপর আস্থা তৈরি হয়েছে জনগণের। এই আস্থার কারনে বেড়েছে বিশ্বাসও। এছাড়াও যে দল এতো বিপুল আসনে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে আসা দলকে কেই বা খুশি না করতে চাইবে? যেদিকে পাল্লা ভারি সেইদিকেই আরও ওজন বাড়ানোতেই সুবিধা। তার জেরেই চার কেন্দ্রে গোহারা হেরেছে বিজেপি।
