হঠাৎ এতো বন্ধুর এবং সৌজন্যমূলক ব্যাবহার! তাও আবার রাজ্যের দুই বিরোধী শিবিরের মধ্যে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের বিরোধী শিবিরের মধ্যে। শুভেন্দু অধিকারীকে উচিত শিক্ষা দিতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে নবান্নে আমন্ত্রণ মুখ্যমন্ত্রীর, সোমবার দিনভর এই জল্পনাই ধূমায়িত হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এর কারণ, স্বাধীনতা দিবসের দিন বিকেলে রাজভবনে চা চক্রে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল ও বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতানেত্রী। সেখানেই দিলীপ ঘোষ এবং তথাগত রায়ের সঙ্গে বার্তালাপ হয় মুখ্যমন্ত্রীর। ওই সময় দিলীপকে নবান্নে চা পানের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
রীতি অনুযায়ী, স্বাধীনতা দিবসের দিন বিকেলে চা চক্রের আয়োজন করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। শাসক, বিরোধী সব দলের নেতারাই হাজির থাকেন ওই চা চক্রে। এদিনও ছিলেন। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তৃণমূলের আরও কয়েকজন নেতানেত্রী হাজির ছিলেন ওই বৈঠকে। আর বিজেপির তরফে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তখা মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। চা চক্রে রাজনীতি বাদ দিয়ে বাকি সব বিষয়েই টুকটাক আলোচনা হয়। ওই সময় মুখ্যমন্ত্রীর দিলীপ এবং তথাগতের সঙ্গে কথাবার্তা বললেও, শুভেন্দু কার্যত ছিলেন স্পিকটি নট। ওই সময় দিলীপকে নবান্নে চা পানের আমন্ত্রণ জানান মুখ্যমন্ত্রী।
{link}
এতেই ছড়িয়েছে জল্পনার কালো মেঘ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিলীপের সঙ্গে শুভেন্দুর ‘অম্লমধুর’ সম্পর্কের কথা জানেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই দিলীপকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে শুভেন্দুকে কোণঠাসা করতে চাইছেন তিনি। কারণ শুভেন্দু সংগঠনের লোক। পূর্ব মেদিনীপুর সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় তৃণমূলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন তিনিই। তাই দিলীপের সঙ্গে শুভেন্দুর দূরত্ব তৈরি হলে আখেরে লাভ হবে তৃণমূলেরই। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই দিলীপকে চায়ের আমন্ত্রণ নবান্নে।
যদিও নেহাত বন্ধুত্বের খাতিরে কিংবা সৌজন্যমূলক এক বার্তাও এর মধ্যে দিয়ে দিয়ে রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী বলেও মতামত রাজ্যের এক অংশের রাজনীতিবিদদের।
{ads}