রাজ্যের বুকে সিংহাসনের জন্যে এতো লড়াইয়ের পর আজ আবার মুখোমুখি হলেন বর্তমানে দেশের অন্যতম পরিচিত দুই রাজনৈতিক মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। উদ্দেশ্য সৌজন্য বিনিময়। কিন্তু সেই সৌজন্য সাক্ষাতের মোড়কে রাজ্যের দাবি-দাওয়ার কথা কৌশলে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই মনে করছেন রাজ্যের এক অংশের মানুষ। আজ, মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সৌজন্য বিনিময়ের পাশাপাশি কোভিড টিকাকরণ ও বাংলার নাম পরিবর্তন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এদিন বিকেল ৪টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যান মমতা। বৈঠক সম্পূর্ন হওয়ার পর বের হন মিনিট ৪৫ পরে।
বছর দুয়েক পরে সোমবার বিকেলে দিল্লি গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃতীয়বারের জন্য বিপুল জনাদেশ নিয়ে নবান্নে ফেরেন তৃণমূল নেত্রী। তার পরে এই দিল্লি যাত্রা তাঁর। দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বিজেপি-বিরোধী কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা মমতার। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রস্তাবিত সেই বৈঠকই করেন মুখ্যমন্ত্রী।
{link}
বৈঠক শেষে মমতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েছিলাম। বাংলার ভোটে জনতার আশীর্বাদ পেয়েছি। তার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সময় পাইনি। কলাইকুণ্ডায় একান্ত বৈঠকের সুযোগ ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি। নির্বাচনের পর সাংবিধানিক রীতি মেনে দেখা করতে হয়। এটা সৌজন্য বৈঠক। তবে কোভিড নিয়ে আলোচনা করেছি। আর একটু বেশি টিকা ও ওষুধ দরকার। আমরা চাই, সব রাজ্যই পাক। তবে আমাদের জনসংখ্যা অনুযায়ী কম পেয়েছি। বাংলায় কোভিড সংক্রমণ এক শতাংশের আশপাশে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় ঢেউয়ের আগে সবাই টিকা পাক, সেটাই চাই। বাংলার প্রকল্পগুলি নিয়েও কথা হয়েছে। রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি দেখার অনুরোধ করেছি। খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
{link}
সবশেষে এতো কিছুর পরেও রাজনীতিতে যে সৌজন্যও এই দেশে বর্তমান, তাই এদিনের বৈঠকে প্রমান হয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে। কয়েকদিন আগেও এই দুই ব্যাক্তিত্বই পরস্পরের দিকে কাদা নিক্ষেপ করেছেন একাধিক বার। সেই দিক থেকেই এতো কিছুর পরেও লড়াইয়ের ময়দানের বাইরে যে সকলের সাথে সকলের সৌজন্য বর্তমান সেই কথাই স্পষ্ট হয়ে রইল।
