একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর মুকুল রায় তার দল তৃণমূল কংগ্রেসে (টিএমসি) ফিরে আসেন। মুকুল রায় শুরু থেকেই টিএমসির মূল দলের সদস্য ছিলেন। সালের নভেম্বরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় তিনি তৃণমূলের একজন সিনিয়র নেতা এবং রাজ্যসভার একজন সাংসদ ছিলেন। বিজেপিতে থাকার সময় গুলোকে মুছে ফেলতে চাইছেন স্বয়ং মুকুল রায়। তাই গা থেকে পদ্ম-গন্ধ মুছতে বাড়ি বদলাচ্ছেন মুকুল রায়। সল্টলেকের যে বাড়িতে থেকে বিজেপির কাজকর্ম পরিচালনা করতেন তিনি, সে বাড়িটিই বদলে ফেলছেন মুকুল। নয়া বাড়িতে উঠে গিয়ে তবেই তৃণমূলের কাজকর্ম পরিচালনা করবেন তিনি। দিন কয়েকের মধ্যেই তিনি বাড়ি বদল করবেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর।
{link}
২০১৭ সালের পুজোর আগে আগে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে দেন মুকুল। মাস দুয়েক পরে দিল্লি গিয়ে তিনি হাতে তুলে নেন গেরুয়া ঝান্ডা। মুকুলের মতো বর্ষীয়ান এক নেতাকে হাতে পেয়ে ব্যবহার করতে শুরু করেন গেরুয়া নেতৃত্ব। তাঁকে সর্বভারতীয় সহ সভাপতির পদ দেওয়া হয়। আদত বাড়ি কাঁচড়াপাড়ায় হলেও, মুকুল ভাড়ায় থাকেন সল্টলেকের একটি বাড়িতে। ওই বাড়ি থেকেই দলীয় কাজকর্ম পরিচালনা করতেন তিনি। উনিশের লোকসভা নির্বাচন কিংবা একুশের বিধানসভা নির্বাচন দুটি ভোটই বিজেপির হয়ে এই বাড়ি থেকেই পরিচালনা করেছিলেন এই নেতা।
{link}
বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তরের প্রার্থী হন মুকুল। বিপুল ভোটে জয়ীও হন। তখনও সল্টেলেকের বিডি ব্লকের ৫১ নম্বর বাড়িতে থাকতেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ে বিজেপি। ১১ই জুন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল ভবনে গিয়ে জোড়াফুল আঁকা উত্তরীয় গলায় পরেন মুকুল। পরে তাঁকে বসানো হয় পিএসির চেয়ারম্যান পদে। বিডি ব্লকের ৫১ নম্বর বাড়িতে থেকে বিজেপির কাজকর্ম পরিচালনা করতেন মুকুল। বিজেপি ছেড়েছেন। তাই আপাতত তিনি উঠে যাচ্ছেন বিডি ব্লকেরই ১৬৪ নম্বর বাড়িতে। বাড়ি বদলের নেপথ্যে কোনও কারণ নেই দাবি মুকুলের। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যে বাড়িতে থেকে মুকুল বিজেপির হয়ে কাজ করেছেন, সেখান থেকে তিনি তৃণমূলের হয়ে কাজ করতে চান না। তাই বাড়ি বদলের সিদ্ধান্ত।
২০১৭ সালে তৃনমুলের সঙ্গে মতান্তের কারনে দল ছাড়েন মুকুল রায়। তার কিছুদিন পর প্রত্যাশিত ভাবে যোগ দেন বিজেপিতে। ২০২১ এ মমতা বন্দোপাধ্যায় পরাজিত করবেন বলেও ঠান নেন মুকুল। কিন্তু বিজেপি আশানরুপ ফল না পাওয়ায় এবং অন্য কারনে তিনি ফিরে যান তৃনমুলে। কেন এই বাড়ি বদলানোর কথা ভাবলেন মুকুল, জানেন মুকুল বাবুই।

