হঠাৎ টুইট করে জানানো, ‘আপাতত বিদায়, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি’, যে টুইটের পর থেকেই রাজ্য রাজনৈতিক মহলে বাড়তে শুরু হয়েছে জল্পনা। বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথাগত রায় কি সত্যিই যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলে? শনি-দুপুরে গতি পায় এই জল্পনাই। কারণ তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের একটি মন্তব্য। তথাগতের টুইট-বাণের প্রেক্ষিতে ফিরহাদ বলেন, কোনও ব্যক্তি বিজেপিতে বেশিদিন টিকতে পারেন না। এর পরেই গতি পেয়েছে তথাগতের তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা।
{link}
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ে বঙ্গ বিজেপি। তারপর থেকে প্রতিনিয়ত টুইট-বাণে বিদ্ধ করতে থাকেন দলীয় নেতৃত্বকে। রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কয়েকজনকেও নিশানা করেন তথাগত। একসময় তিনিই ছিলেন রাজ্য বিজেপির মাথা। পরবর্তীকালে হন মেঘালয়ের রাজ্যপাল। রাজ্যপাল হিসেবে অবসর নেওয়ার পর তথাগত সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করেন। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফল খারাপ হতেই শুরু করেন টুইট-বাণ বর্ষণ। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘কামিনী-কাঞ্চন’ যোগের অভিযোগও তোলেন তথাগত। তার জেরে তাঁকে দল ছেড়ে চলে যেতে বলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তার পরেও বাণ-বর্ষণ বন্ধ হয়নি তথাগতের। শনিবার কাকভোরে করা এক টুইটে তিনি লেখেন, আপাতত বিদায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। পুরভোটের ফলের অপেক্ষায় থাকব।
{link}
তথাগতের এহেন টুইট-বাণের প্রতিক্রিয়ায় ফিরহাদ বলেন, কোনও ব্যক্তি বিজেপিতে বেশিদিন টিকতে পারেন না। কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ করে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে গিয়ে ভিড়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তারও আগে একদিন আচানক ছেলে শুভ্রাংশুকে নিয়ে বিজেপির ঝান্ডা ছেড়ে জোড়াফুল আঁকা উত্তরীয় গলায় পরে নিয়েছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন কী হতে চলেছেন তথাগত? উত্তর দেবে সময়। যদিও এই প্রসঙ্গে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না, কারন বাবুল কিংবা মুকুলের মতো নন তিনি। রাজনৈতিক ময়দানে তিনি উঠে এসেছেন একেবারে খাঁটি বিজেপি করে, আরএসএস থেকে। তাই তার দলবদল একটু বিস্ময়কর হবে বই কি। যদিও রাজ্য রাজনীতিতে যে দলবদলের হাওয়া চলছে তাতে এই দলবদল বাস্তব হলেও অবাক করার মতো বিষয় হবে না…
