সামনে এগিয়ে আসছে পুরসভা নির্বাচন, এবার সেই লক্ষ্যেই নতুন স্ট্র্যাটেজি সাজাতে শুরু করল তৃণমূল। সেই কারনেই বোধহয় গরম লোহায় আঘাত, স্ট্রাইক দ্য আয়রন, হোয়েন ইট ইজ হট। এই আপ্তবাক্য স্মরণ করেই এবার পুরসভা ভোট করাতে উদ্যোগী হলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ১৯ ডিসেম্বর রাজ্যের দুই পুরনিগমে ভোট করতে চেয়ে কমিশনের কাছে চিঠি দিল পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিপুল জয়ের আঁচ ধরে রাখতে এখনই পুরসভার ভোট করাতে উদ্যোগী হচ্ছে রাজ্য সরকার।
{link}
রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভার নির্বাচন হয়নি দীর্ঘদিন। সব মিলিয়ে ১১৬টি পুরসভার নির্বাচন করা জরুরি। কারণ এই সব পুরসভাই চলছে প্রশাসক দিয়ে। যার জেরে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে দীর্ঘদিন ধরেই পুরসভার ভোট করাতে চেয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। তবে উনিশের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির উত্থানের জেরে পুরসভার ভোট স্থগিত করা হয় বলে বিরোধীদের অভিযোগ।
{link}
যদিও ঠিক সময়েই পুরভোট হবে বলে বিরোধীদের বারবার আশ্বস্ত করে আসছে তৃণমূলের সরকার। একুশের ভোটে ব্যাপক সাফল্য পায় তৃণমূল। পর্যুদস্ত হয় বিজেপি। তার পরেই পুরসভা ভোট করাতে উদ্যোগী হন তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেত্রীর হারের পর কিছুটা ম্রিয়মান হয়ে পড়ে তৃণমূল। এর পর ভবানীপুর উপনির্বাচনে তৃণমূল নেত্রীর বিপুল ভোটে জয়ের পর অক্সিজেন পেয়ে যায় জোড়াফুল শিবির। মঙ্গলবার রাজ্যের চার বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন তৃণমূল প্রার্থীরা। এই চারটি কেন্দ্রের মধ্যে একুশের ভোটে দুটির রাশ ছিল বিজেপির হাতে। সেই দুই কেন্দ্র শান্তিপুর ও দিনহাটায় বিজেপিকে পর্যুদস্ত করে তৃণমূল। এর পরেই পুরসভা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্যের শাসক দল। ডিসেম্বরের ১৯ তারিখে হাওড়া ও কলকাতা পুর নিগমের ভোট করাতে চেয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এখন দিকে দিকে বইছে জোড়াফুলের জোরালো হাওয়া। এই সময়ই পুরভোট করানোর উপযুক্ত সময়। সূত্রের খবর, কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ভোট করিয়ে ওয়ার্মআপ করে নিতে চাইছে শাসক দল। তাতে সাফল্য মিললে ভোট করানো হবে বাকি ১১৪টি পুরসভায়। বিধানসভা নির্বাচনে এসেছে বিপুর সাফল্য, এবার সামনে লক্ষ্যমাত্রা পুরসভা নির্বাচন।
