বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে দলত্যাগ করে গিয়েছিলেন বিজেপিতে। পদ্ম শিবিরে নিজের চমক দেখাতে ব্যার্থ হন, তারপর ফের প্রত্যাবর্তন করেন তৃণমূলে। সেই কারনেই এখন আর রাজনীতিতে সেই পুরোনো স্বচ্ছ ও দাপুটে ভাবমূর্তি আর নেই।। সেই সব্যসাচী ‘কাঁটা’ তুলতে তাঁকে এবার পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী নাও করতে পারেন তৃণমূল নেতৃত্ব বলে সূত্রের খবর। কালীঘাটে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সী সহ একাধিক তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব।
শিলিগুড়ি, চন্দননগর, বিধাননগর এবং আসানসোল এই চার পুরনিগমের ভোট হবে ২২ জানুয়ারি। ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে নোটিশ। এই চার পুরসভার রাশ করায়ত্ত করতে মরিয়া তৃণমূল। কলকাতা পুরসভার রশি ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে তৃণমূলের। এবার রাজ্যের এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ পুরসভার রাশ হাতে নিতে চাইছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই কারণেই জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
{link}
পুরসভার রণকৌশল স্থির করার পাশাপাশি এই বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় দুটি। এক, আসানসোল পুরসভা। দুই বিধাননগর পুরসভা। আসানসোলে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে বিজেপির। সেখানে বিজেপির সাংসদ ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। এলাকার বিধায়কও বিজেপির। পুরসভার প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি বর্তমানে বিজেপি নেতা। তাই এখানে তৃণমূলের প্রার্থী কে হবেন, মেয়র-মুখই বা কে, এসব নিয়েই চলছে আলোচনা।
সমস্যা বিধাননগর পুরসভা নিয়েও। কারণ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে এই পুরসভার মেয়র ছিলেন সব্যসাচী দত্ত। দলকে ‘লেজে খেলিয়ে’ তিনি যোগ দেন গেরুয়া শিবিরে। এই পুরভোট-বৈতরণী কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং তাপস রায়ের কাঁধে ভর করে পার হওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নাকি সব্যসাচী দত্তকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে?
{link}
বিধাননগর পুরসভার মেয়র ছিলেন সব্যসাচী। কিছুদিন আগে তিনি ফিরেছেন তৃণমূলে। তাই তাঁকে নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে দলের অন্দরে। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সব্যসাচীর বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত সুজিত বসু। এখন দেখার, ফের একবার মেয়র মুখ হয়ে লড়ার সুযোগ পান কিনা সব্যসাচী! তবে হয়ত সুযোগ মিললেও নিজের সেই পুরোনো ছন্দ খুঁজে পাওয়া যে একটা বেশ কঠিন কাজ, তা অস্বীকার করার কোন স্থান নেই।
