দলের সাথে এবার নাম জড়াতে চলেছে আরও এক মাওবাদীর। ছোটখাটো নয় একেবারে অতীতের নামকরা কুখ্যাত মাওবাদীর। সূত্রের পাওয়া খবর অনুযাই তৃণমূলের ব্লক সভাপতি পদে বসতে চলেছে এক প্রাক্তন মাওবাদী! ইলেকশন স্পেশালিস্ট প্রশান্ত কিশোর ওরফে পিকের সংস্থা আইপ্যাকই তার নাম প্রস্তাব করেছে বলে উঠে আসছে দলীয় সূত্রের খবরে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। এহেন পদক্ষেপ দলের ইমেজ নষ্ট করবে না তো? তার পাশাপাশি প্রভাব পড়তে পারে দলের ভাবমূর্তীতেও।
{link}
তৃণমূলের ঝাড়গ্রামের লালগড় ব্লক সভাপতি শ্যামল মাহাত। তাঁকে সরিয়েই এক প্রাক্তন মাওবাদীকে ওই পদে বসানোর প্রস্তাব করেছে আইপ্যাক। তবে প্রাক্তন ওই মাওবাদীকে নেতা হিসেবে মেনে নিতে রাজি নন তৃণমূলেরই একাংশ। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রাক্তন ওই মাওবাদী তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কনভয়ে মাইন হামলায় অভিযুক্ত। ২০০৮ সালের ২রা নভেম্বর ওই হামলা হয়। শালবনির ভাদুতলায় ওই বিস্ফোরণ ঘটলেও, রক্ষা পান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে পালাবদলের পরে সমাজের মূল স্রোতে ফেরেন ওই প্রাক্তন মাওবাদী। বর্তমানে তিনি লালগড় ব্লক তৃণমূলের আদিবাসী সেলের নেতা। জনসাধারণের কমিটির আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছে ওই প্রাক্তন মাওবাদী। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, খুন ও নাশকতার একাধিক মামলাও রয়েছে। এহেন এক ব্যক্তিকে দলের শীর্ষ পদে বসানোর প্রস্তাব করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। ঝাড়গ্রামের জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া, ব্লক সভাপতি বদল হলে সেটা শীর্ষ স্তর থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এতে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই। আর টিম পিকে কী করছে তা আমাদের জানা নেই। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জেলায় সংগঠন ঢেলে সাজাতে চাইছেন তৃণমূলের ভোট ম্যানেজারেরা। সেই কারণেই শ্যামলকে সরানোর ভাবনা।
{link}
স্বাভাবিক ভাবেই এই প্রসঙ্গ ঘিরে দলের শীর্ষ নেতত্বদের সাথে ঠান্ডাযুদ্ধ শুরু হয়েছে তৃণমূলের শিবিরে। স্থানীয় নেতারা কোনভাবেই সেই ব্যাক্তিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের চেয়ারে দেখতে ইচ্ছুক নন। যার ফলে জলও গড়িয়েছে বেশ অনেকদূর। শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাই দেখার বিষয়।
