একসময় যারা রাজনৈতিক মহলে চিরশত্রু ছিল, তারাই কয়েকদিন আগে ভোটযুদ্ধের কারনে হয়েছিলেন মিত্রপক্ষ। কিন্তু সাফল্য না মেলায় এবার সেই বাম-কংগ্রেসের বন্ধুত্বতেই ধরল চিড়। ভেস্তে গেল বাম-কংগ্রেস জোট। অগত্যা একলা চলো নীতিই এখন অনুসরণ করার রাস্তায় হাঁটছে বাম এবং কংগ্রেস দুই রাজনৈতিক দলই। কলকাতা পুরসভার মতো শিলিগুড়ি পুরনির্বাচনেও ফের একবার একক শক্তি পরীক্ষায় নামছেন বাম এবং কংগ্রেসের ভোট ম্যানেজারেরা।
গত বিধানসভা নির্বাচনে জোট বেঁধে লড়াই করে বাম এবং কংগ্রেস। রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে কোনও কেন্দ্রে জয়ী হননি বাম কিংবা কংগ্রেসের কোনও প্রার্থী। ভবানীপুর উপনির্বাচনের আগে আগে ভেঙে যায় জোট।
{link}
কলকাতা পুরসভার নির্বাচনেও জোট হয়নি। আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছিল বাম এবং কংগ্রেস। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হলে বামফ্রন্ট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল ফরওয়ার্ড ব্লক। তার পর আর জোট গড়ে বামফ্রন্ট ভেঙে ফেলার দুঃসাহস দেখাননি বামফ্রন্টের মাথারা। কলকাতা পুরভোটে একপ্রস্ত শক্তি পরীক্ষা হয়েছে বামেদের।
{link}
শিলিগুড়ি পুরসভার রাশ করায়ত্ত করতে ফের একবার জোটের পথে হাঁটে সিপিএম এবং কংগ্রেস। তবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই শুরু হয়েছে অশান্তি। কংগ্রেসের অভিযোগ, পিছন থেকে ছুরি মেরেছেন বামেরা। সূত্রের খবর, নিজেদের জেতা ৪টি আসন তো আছেই, তাছাড়া যেসব আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল, কংগ্রেস রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে সেগুলিতেও প্রার্থী দিতে চেয়েছে সোনিয়া গান্ধির দল। জেলা কংগ্রেসের অভিযোগ, বামেরা ওই ওয়ার্ডগুলিতে একতরফাভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। প্রার্থী প্রত্যাহার করা না হলে জোটের প্রশ্নই নেই। কংগ্রেসের অভিযোগ, জোটের কথা বলে, এভাবে একতরফা প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে আসলে পিছন থেকে ছুরি মারা হয়েছে।
জোটের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন বামেরা। তাঁদের আশা ছিল, আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান সূত্র বেরোবে। তা যে হচ্ছে না, তার প্রমাণ সম্মুখ সমর। বাম ও কংগ্রেসের ২৯টি ওয়ার্ডে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামছে বাম ও কংগ্রেসের প্রার্থীরা। এখন এই পদক্ষেপে শাসক শিবিরের সুবিধা হয় নাকি অসুবিধা তাই দেখার বিষয়।

