কেন্দ্রে বিজেপিকে হারাতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধছে তৃণমূল! অন্ততঃ এমনই ইঙ্গিত মিলেছে ঘাসফুল শিবির সূত্রে। কারন সেইভাবে না লড়লে প্রতিপক্ষকে দরাশাই করা সম্ভব নয় বলেই ধারনা। সোমবার দিল্লি যাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দফায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বৈঠক করবেন বিজেপি-বিরোধী কয়েকটি আঞ্চলিক দলের নেতার সঙ্গেও। সূত্রের খবর, এই দফায় তিনি দেখা করতে পারেন কংগ্রেসের সর্বময় কর্ত্রী সনিয়া গান্ধির সঙ্গেও। সেখানেই গতি পেতে পারে কংগ্রেস-তৃণমূলের জোট বাঁধার প্রক্রিয়া।
বিজেপি-বিরোধী ঐক্যে ধার দিতে সোমবার বিকেলে দিল্লি যাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বেলা ১২টায় তিনি বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। ওই দিনই পরে বৈঠক করবেন বিজেপি-বিরোধী নেতাদের সঙ্গে। সূত্রের খবর, দিন চারেকের এই সফরে মমতা দেখা করবেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধির সঙ্গে।
কংগ্রেস সম্পর্কে যে তৃণমূল নেত্রীর মনোভাব বদলেছে, তা টের পাওয়া গিয়েছিল আগেই। একুশের মঞ্চে তিনি ঘোষণা করেন শীতে ব্রিগেডের সভায় আমন্ত্রণ জানানো হবে সনিয়াকে। মমতার একুশের ভার্চুয়াল সভা দেখানো হয়েছিল দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে। সেখানে বেশ কয়েকজন বিজেপি-বিরোধী নেতার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমও। তৃতীয় ফ্রন্ট গড়তে তৃণমূলের হয়ে দৌত্য করতে একাধিকবার দিল্লি এসেছিলেন ইলেকশন স্পেশালিস্ট প্রশান্ত কিশোর ওরফে পিকে। তিনিও একান্তে বৈঠক করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি, প্রিয়ঙ্কা গান্ধি বঢরা এবং বেণুগোপালের সঙ্গে। এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারও পিকেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন কংগ্রেস ছাড়া তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের কল্পনা শূন্যে সৌধ নির্মাণের শামিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর পরেই তৃণমূল নেতৃত্ব দূরত্ব কমাতে থাকে কংগ্রেসের সঙ্গে। তার পরেই ঘাসফুল শিবির কংগ্রেসের কাছাকাছি আসতে শুরু করে। সনিয়ার সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয় তারও পরে।
এই রাজ্যে রাজনৈতিক লক্ষ্যে পথ চলা শুরু হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর সেই কংগ্রেসের হাত ধরেই। কিন্তু সেই দল ছেড়েই পরে নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেন তিনি। এখন সেই দিক থেকে ফের নিজের পুরোনো দলের সাথেই জোট বাঁধতে চলেছেন তিনি। লক্ষ্য একটাই, দিল্লি জয়…
