একসময় দুজন দুজনের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিপুল নাম করেছিলেন, কিন্তু সময়ের মারে এখন হয়ে উঠেছেন মিত্রপক্ষ। রাজনীতির খেলা বোধহয় একেই। তৃণমূলে বাবুল এখন ‘বেরাদর’, তাই কি ঢোক গিলবেন সাংসদ তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র? রবিবাসরীয় সকালে এটাই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠল রাজ্যের নানা প্রান্তের চায়ের ঠেকে। বাবুল যখন বিজেপিতে ছিলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন মহুয়া। শনিবার বাবুল ভিড়েছেন তৃণমূলে। সন্ধির হাত বাড়িয়েছেন মহুয়া। তাই পুরানো ওই ‘মামলা’ র ভবিষ্যৎ কি তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
{link}
২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস। ঠান্ডায় কাঁপছে তামাম ভারত। তবে একটি টিভি চ্যানেলের বিতর্কসভার জেরে সরগরম রাজ্যরাজনীতি। বিতর্কসভার একদিকে ছিলেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। অন্যদিকে সাংসদ তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র। লাইভ শো চলাকালীন বাবুল মহুয়ার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, মহুয়া আর ইউ অন মহুয়া? প্রশ্নটির বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, মহুয়া আপনি কি মহুয়া খেয়ে আছেন? উত্তেজক পানীয় মহুয়া পানের কথা বলায় তীব্র প্রতিবাদ করেন মহুয়া। তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও করেছিলেন তিনি। ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আলিপুর থানায় বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মহুয়া। এক মহিলার সম্মানহানির অভিযোগে বাবুলকে অভিযুক্ত করে চার্জশিটও দেয় আদালত।
{link}
শনিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে জোড়াফুল আঁকা উত্তরীয় পরেন বাবুল। তার পরেই বদলে যায় বাবুল-মহুয়ার সম্পর্কের রসায়ন। প্রথমে টুইট করে মহুয়া লেখেন, অভিনন্দন। আমার লোকসভার সহকর্মীকে স্বাগত। এক সঙ্গে ব্যাটিং করার জন্য মুখিয়ে আছি। আগে যা ভিন্ন দলের হয়ে করতাম। এর প্রেক্ষিতে বাবুল রিটুইট করে লেখেন, অনেক অনেক ধন্যবাদ। সঙ্গে স্মাইলি ইমোজি দিয়ে বাবুল জানান, তিনি আবেগতাড়িত। এর পরেই উঠছে সেই অমোঘ প্রশ্ন, বাবুলের বিরুদ্ধে মামলার জল আর আদৌ গড়াবে কি? মনে তো হয় না। যাই হোক এখন যাকে বলা চলে রাজনৈতিক মহলে তেলে জলেও মিল খায়, হ্যাঁ অন্তত বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই তো মনে হচ্ছে!
