তথাগত ঘোষঃ কোটি টাকা, এক দুই কোটি নয়, একেবারে একুশ কোটি। যে টাকার অঙ্ক দেখে চোখ কপালে উঠেছে ইডিরও। এতো টাকা তাও আবার নগদ উদ্ধার হতে পারে তা বোধহয় তারা নিজেরাও ধারনা করতে পারেননি। একজন সাধারন ২৮ বছর বয়সি মডেলের কাছে এতো টাকা এলো কোথা থেকে? প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। পার্থবাবুর যদিও ইতিমধ্যে শরীর বেশ খারাপ করতে শুরু করেছে। ঘন্টার পর ঘন্টা জেরার ধকল যেন আর নিতে পারছে না তার শরীর।
{link}
এই একই সূত্রে সমাজের একটা অংশের প্রশ্ন, তবে যারা দিনের পর দিন স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করেছে, তাদের কষ্ট দেখবে কে? স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগের দুর্নীতি নিয়ে একসময় হাজার হাজার স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়া ছেলে মেয়ে প্রতিবাদ নিয়ে পথে নেমেছিল। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন তাদের সাথে এইভাবে দুর্নীতি না করা হয়। পাল্টা উত্তরে নবান্ন চত্বরে জুটেছিল পুলিশের মার। ন্যায় বোধহয় সেদিন সবকিছু দেখে চুপ করে আড়ালে হেঁসেছিল। স্বপ্নভঙ্গ হওয়া চোখগুলো থেকে ঝরে পড়েছিল আর্তনাদের জল। যদিও এই সমস্ত কিছু নিয়ে সম্পূর্নভাবেই মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন রাজনৈতিক নেতৃত্বেরা।
{link}
আজ সেই মানুষগুলোই হয়ত রাগে ফুঁসছেন। এই টাকা কার টাকা? তাদের প্রাপ্য চাকরিই বা কই, আদৌ মিলবে তো? কপালে চিন্তার ভাঁজও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। কই তাদের হয়ে তো কোন সমাজের শক্তিধর মানুষ মুখ খোলেননি একবারও। এতো টাকা, দামি দামি ফ্ল্যাট যেন একটা ছবি তুলে ধরছে চোখের সামনে। ধর্মের কল আজ বাতাসে নড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলিও অভিযুক্তকে আড়াল করতে তুলে ধরছে অন্য বিরোধী দলের দুর্নীতির ছবি। তাদের কাপড়েও হয়ত রয়েছে কোন না কোন দুর্নীতির কালো দাগ। কিন্তু প্রশ্ন হল, এসবের মধ্যে সাধারন মানুষের ঠাঁই কোথায়? লুঠ হচ্ছে সাধারন মানুষেরই টাকা, সময়ের বলিকাঠে বিত্তশালী মানুষদের হাতে নিত্য বলি হচ্ছেন তারা, সবশেষে নিজেরাই আবার টিভিতে তা দর্শকাসনে বসে দেখছেন। এতো দুর্নীতি, কোটি কোটি টাকা লেনদেনের মাঝে সাধারন মানুষের অবস্থা অনেকটা হীরক রাজার দেশের ‘কৃষক’-এর মতো, গড়ছেন তিনি, দেশ চালাচ্ছেন তিনি, আবার দিনশেষে লুণ্ঠিত হচ্ছেন সেই তিনিই। উপসংহারে ভালোজনের কপালে জোটে সেই ভাঙা ঘর, আর যিনি মন্দ হন, তিনিই চড়েন সিংহাসনে।
{ads}