সামনে রবিবারে পুরভোটের মহারন কলকাতার বুকে। ক্রমশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে কলকাতার রাজনৈতিক মহল। সব প্রার্থীই প্রচার থেকে শুরু করে একাধিক পদক্ষেপ ও আশ্বাসবানীর মাধ্যমে জয় করে নিতে চাইছেন মানুষের মন। সেই কারনেই চলেছে বিপুল প্রচারপর্বও। এরই মাঝে সুব্রত আবেগ উসকে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা! সত্যিই তাই, কলকাতা পুরসভার শেষবেলার প্রচারে ফেসবুক পোস্টে এই চেষ্টাই করলেন ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়। এই ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন রাজ্যের প্রয়াত মন্ত্রীর বোন তনিমা চট্টোপাধ্যায়। এতোএব লড়াই হতে চলেছে কাঁটায় কাঁটায়।
{link}
ফেসবুকে সুদর্শনা লেখেন, তুমি রবে নীরবে...। রাজনীতিতে আমার হাতেখড়ি তোমার হাতেই। তোমার দেখানো পথেই রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল আমার পথচলা। ২০১৫ সালে অনভিজ্ঞ, অচেনা সুদর্শনাকে রাজনীতির ময়দানে প্রতিষ্ঠা পেতে তুমিই সাহায্য করেছিলে। ছাত্রী সুদর্শনা সর্বদা তোমার দেখানো পথ অনুসরণ করে প্রতিটি অগ্নিপরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছে। কোভিড মহামারি থেকে আমফান বিপর্যয়, তোমার শেখানো রাস্তাতেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। এবার সামনে বড় পরীক্ষা। শেষদিন ওপেন জিম উদ্বোধন করতে এসেও তুমি বলেছিলে সামনে বড় পরীক্ষা, সুদর্শনা তৈরি হও। রসিকতা পচ্ছন্দ করতে, কোনওদিন অভিনয় ও অতি নাটকীয়তা পছন্দ করতে না। কথায় বলে, রক্তের সম্পর্কে আত্মীয় হয় না। আত্মার সম্পর্কে আত্মীয় হয়। তুমি আজ নেই। তবুও তোমার প্রতি বিশ্বাস, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা চিরদিন থাকবে। দূরে চলে গিয়েও তুমি থাকবে হৃদয়ে...। তুমি অন্তরাল থেকেও আশীর্বাদ করবে। অন্য জগতেও তুমি ভালো থেকো।...সুদর্শনা।
{link}
তৃণমূলের একটি সূত্রের খবর, এই সুদর্শনা প্রার্থী হোন, জীবদ্দশায় তা চাইছিলেন না সুব্রত। তাঁর মৃত্যুর পরে ওই ওয়ার্ডের প্রার্থী হিসেবে টিকিট দেওয়া হয় তাঁর বোন তনিমাকে। পরক্ষণেই প্রতীক ফিরিয়ে নিয়ে দেওয়া হয় সুদর্শনাকে। সেইখান থেকেই শুরু হয় বিতর্ক, শেষ পর্যন্ত টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হয়েই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন প্রয়াত মন্ত্রীর বোন তনিমা চট্টোপাধ্যায়। ঘাসফুলের শীর্ষ নেতৃত্বের করা সতর্কতাবানীও কাজে দেয়নি। সামনাসমানি লড়াইয়ে নামেন সুদর্শনা ও তনিমা। সেই সুদর্শনাই এবার খেলে দিলেন সুব্রত-তাস। শেষ পর্যন্ত, ১৯ ডিসেম্বর নির্বাচনী লড়াই শেষে বিজয়ীর হাসি হাসেন কে সেটাই দেখার।
