সামনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন লক্ষ্য ২০২৪-এর লোকসভা মহারণ। লড়াই যতোই কঠিন হোক না কেন, দিল্লি দখল করা চাই-ই চাই। সেই লক্ষ্যেই এবার ফের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করল তৃণমূল। মহারণ লক্ষ্য রেখেই সাজানো হবে সংগঠন। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সর্বভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গীতেই সংগঠন সাজাবে তৃণমূল। যদিও ইতিমধ্যেই এর পূর্বে বেশ কোমর বেঁধে সমস্ত পরিকল্পনার সাথে ময়দানে নেমে কিছুটা ঝড় তুললেও সেই ঝড় এখন কার্যত নিস্প্রভ হয়ে পড়েছে। সেই কারনেই ফের নতুন করে পরিকল্পনা বলে ধারনা রাজনৈতিক মহলের।
পার্থ জানান, সংবিধান মেনে সাংগঠনিক নিয়মে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন হবে চেয়ারপার্সন পদের জন্য। তারপর অন্যান্য পদে নির্বাচন হবে। তিনি জানান, তৃণমূলের সাংগঠনিক নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে ২ ফেব্রুয়ারি। ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সাংগঠনিক নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দিনে জাতীয় প্রেক্ষাপটে নজর দিতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য বাড়িয়ে সেই কাজই করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে ছাপ রাখাই আশু লক্ষ্য তৃণমূলের। সেই কারণেই সর্বভারতীয় মর্যাদা ধরে রেখে জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হতে চাইছে জোড়াফুল শিবির। সেই লক্ষ্যেই ত্রিপুরা পুরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল তারা। সেই একই লক্ষ্যে গোয়া নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল পুরভোটে।
{link}
কেবল গোয়া কিংবা ত্রিপুরা নয়, ভবিষ্যতে মেঘালয়, হরিয়ানার মতো রাজ্যেও সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে সংগঠন ঢেলে সাজানোই তৃণমূলের আশু লক্ষ্য। সেই কারণে জাতীয় স্তরের মুখগুলোকে সামনে রাখতে চাইছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য সংখ্যা ২০ জন। তা বাড়িয়ে জাতীয় স্তরের নেতাদের রাখতে চাইছে তৃণমূল। এদের মধ্যে রয়েছেন হরিয়ানার অশোক তানওয়ার, মেঘালয়ের মুকুল সাংমা, বিহারের কীর্তি আজাদ, জেডিইউ ছেড়ে তৃণমূলে আসা প্রাক্তন সাংসদ পবন বর্মা প্রমুখ। কংগ্রেস থেকে আসা সুস্মিতা দেব, লুইজিনহো ফেলেইরো বিজেপি থেকে আসা যশবন্ত সিনহা, লিয়েন্ডার পেজের মতো নেতাকেও ওয়ার্কিং কমটিতে আনার পরিকল্পনা চলছে।
{link}
সবমিলিয়ে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, রাজনৈতিক লড়াইয়ে কেন্দ্রীইয় স্তরে দলকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। যা তারা করতে কতোটা সফল হবেন, তারই প্রমান মিলবে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে।
