রাজ্যের পাশাপাশি এবার তৃণমূল নেত্রীকে সর্বভারতীয় নেত্রী হিসেবে গড়ে তুলছেন ইলেকশন স্পেশালিস্ট প্রশান্ত কিশোর! রাজ্যে বিধানসভা জয় সম্পূর্ন, এবার লক্ষ্য কেন্দ্রের বুকে তৃণমূল কংগ্রেস দল কে প্রতিষ্ঠা করা। কংগ্রেসের সঙ্গে ইদানিং তিনি যে দূরত্ব রচনা করছেন, তার নেপথ্যেও পিকে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা। মমতা যে মহারাষ্ট্র যাচ্ছেন, তার পেছনেও পিকে হাত বলে সূত্রের খবর।
শারদ পাওয়ারের পাশাপাশি রাহুল গান্ধির সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক করেন প্রশান্ত কিশোর। তখনই জল্পনা ছড়ায় কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন প্রশান্ত। যদিও কংগ্রেসে তিনি যোগ দেননি। তবে বিজেপিকে পরাস্ত করতে তৃতীয় বিকল্পের কোনও যৌক্তিকতা নেই, কংগ্রেস ছাড় বিরোধী ঐক্য মূল্যহীন বলেও সওয়াল করেছিলেন। এরই কিছুদিন পরে দেখা যায়, কংগ্রেসের রণনীতির কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। রাহুলের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
{link}
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রশান্তের ছকে দেওয়া পথেই এগোচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। এই প্রশান্তই জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের চলার পথ নিরূপণ করছেন। কীভাবে এবং কোন পথে হাঁটলে দিল্লির রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে তৃণমূল, মমতা হয়ে উঠবেন প্রধান বিরোধী নেত্রী তৃণমূলকে আপাতত তা-ই পাখি পড়া করাচ্ছেন ভোট কুশলী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পিকের পরামর্শ মেনে এগিয়ে ভালোই ফল পেয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ত্রিপুরা পুরসভার ভোটে সব আসনে প্রার্থী দিতে না পারলেও, ছাপ ফেলেছে জোড়াফুল। মেঘালয়ে ইতিমধ্যেই সংগঠন গড়ে তোলার পথ বেশ প্রশস্ত হয়েছে। আরব সাগরের তীরের ছোট্ট রাজ্য গোয়ায়ও মাথা ভেঙে দেওয়া গিয়েছে কংগ্রেসের। হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতেও ইতিমধ্যে ছাপ ফেলতে পেরেছে তৃণমূল।
{link}
এখন কথা হচ্ছে ছাপ ফেললেও আদৌ সেইভাবে কি প্রভাব ফেলতে পারবে তারা? কারন কেন্দ্রে এই মুহূর্তে দুটি প্রধান শক্তিশালী দল শাসকদল বিজেপি ও কংগ্রেস। একের পর এক কংগ্রেসের ঘর ভেঙে নিজেদের ঘর গড়ার কারনে তা সুবিধা করে দিচ্ছে শাসক শিবির বিজেপির। সেই কারনেই একটা অংশের রাজনীতিবিদদের প্রশ্ন এহেন কাজকর্ম করে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করে ফেলছে না তো ঘাসফুল শিবির? কারন এভাবে চলতে থাকলে জোর ধাক্কা খাবে চব্বিশের জোটের চিন্তাভাবনা।

