এই একটা দিনেই রাজ্যের শাষক শিবিরের হয়ে থাকে সবথেকে বড়ো জমায়েত। কিন্তু এবার তা হবে ভার্চুয়ালি। রাত পোহালেই একুশে জুলাই। সেই নিয়েই প্রস্তুতি তুঙ্গে তৃণমূল শিবিরে। করোনা আবহে গতবারের মতো এবারও সভা হবে ভার্চুয়ালি বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বেরা। তবে এবারের সভা নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। কারণ এদিন তৃণমূলে ফিরতে পারেন দলবদলুদের বেশ কয়েকজন। অন্য দল থেকেও কয়েকজন হাতে তুলে নিতে পারেন ঘাসফুল আঁকা ঝান্ডা। একুশের বিধানসভায় বিপুল অঙ্ক নিয়ে জয়ের পর তাদের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে বড় চমক দিতে প্রস্তুত ঘাসফুলের শিবির।
{link}
প্রতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় একুশে জুলাই দিনটি শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে তৃণমূল। ১৯৯৩ সালের একুশে জুলাই মহাকরণ অভিযানে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ১৩ জন আন্দোলনকারী। আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। কংগ্রেস ছেড়ে নিজের নয়া দল গড়েছেন মমতা। নাম দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেসের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসও দিনটি পালন করে। তবে ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর দিনটির জৌলুশ বেড়েছে একলপ্তে অনেকখানি। তাই বছরভর এই দিনটির দিকেই তাকিয়ে থাকেন আম-তৃণমূল কর্মীরা। ধর্মতলার জনসমাবেশে চোখে পড়ে জনসমুদ্রের ছবি।
করোনা আবহে গতবারের মতো এবারও সভা হবে ভার্চুয়ালি। উল্লেখযোগ্যভাবে এই সভায় ঘরওয়াপসি হতে পারে বেশ কয়েকজন দলবদলুর। তৃণমূলের অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর, এদিন দলে ফিরতে পারেন ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার সোনালী গুহ সহ আরও বেশ কয়েকজন। এরা সকলেই বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে যোগ দিয়েছিলেন বিপক্ষ শিবিরে। কিন্তু দলের বিপুর জয়ের পর তারা আবার প্রত্যাবর্তন ঘটাতে চেয়েছেন দলে।
{link}
এদিনের ভার্চুয়াল সভায় যোগ দিতে পারেন ত্রিপুরার বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতাও। একটি সূত্রের খবর, এদিন বিজেপি নেতা সুদীপ রায়বর্মণ পদ্ম-সঙ্গ ছেড়ে হাতে তুলে নিতে পারেন ঘাসফুল আঁকা ঝান্ডা। মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সুদীপও ফিরেছেন গেরুয়া শিবিরে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে মনান্তরের জেরে তিনি বর্তমানে ‘বিক্ষুদ্ধ’। তাই এদিন তিনিও কয়েকজনকে নিয়ে ফিরতে পারেন তৃণমূলে। এখন দেখার, একুশে ঘরওয়াপসি হয় কতজনের! তবে যেভাবেই হোক একুশের মঞ্চে আগামীকাল একাধিক চমক তৃণমূল দেখাতে চলেছে বলেই ধারনা রাজ্যের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। এখন কোন দিক থেকে কি চমক আসে তাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
