রাজ্যের দুর্দন্ডপ্রতাপ নেতাদের মধ্যে যে কজনের নাম উঠে আসে তার মধ্যে একজন অবশ্যই অনুব্রত মন্ডল। বোলপুর সহ পশ্চিমবঙ্গে তার দাপট কারুর অজানা নয়। কিন্তু এবার কি তার এই দাপুটে ছবির সান্নিধ্য লাভ করতে চলেছে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলও? ইঙ্গিত খানিকটা সেইরকমও। আমি গোল দিতেই ভালোবাসি। রেফারি হতে ভালোবাসি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেই ত্রিপুরায় গিয়ে খেলা করব। এই মন্তব্য তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় তৃণমূলই জিতবে বলেও আত্মবিশ্বাসী বীরভূমের এই তৃণমূল নেতা।
পর পর তিনবার নবান্ন দখলের পর এবার তৃণমূল নেতৃত্বের পাখির চোখ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির দিকে। এর মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে বাঙালি অধ্যুষিত ত্রিপুরা। লোকসভা নির্বাচনের আগের বছরই ত্রিপুরায় হবে বিধানসভা ভোট। ওই নির্বাচনে বিপ্লব দেবকে ক্ষমতাচ্যুত করাই প্রধান লক্ষ্য তৃণমূল নেতৃত্বের। সেই লক্ষ্য পূরণেই বাঙালি অধ্যুষিত ত্রিপুরার সার্বিক পরিস্থিতি খুঁটিয়ে দেখতে প্রথমে ইলেকশন স্পেশালিস্ট পিকে-র সংস্থা আইপ্যাক গিয়ে সমীক্ষা চালায়। সেখানে তাদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। পরে ত্রিপুরা যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে ত্রিপুরায় কার্যত ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছেন তৃণমূল নেতারা।
{link}
চলতি মাসের ১৫ তারিখে ফের ত্রিপুরা যাবেন অভিষেক। সেদিন আগরতলায় হবে পদযাত্রা। তাতে যোগ দেবেন তৃণমূলের হেভিওয়েট বেশ কয়েকজন নেতা। বিজেপির জনা কয়েক বিধায়কও সেদিন তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিতে পারেন বলে ঘাসফুল শিবিরের একটি সূত্রের খবর।
তবে তৃণমূলের এই কর্মসূচিতে ডাক পাননি দলনেত্রীর স্নেহের কেষ্ট। তাতে অবশ্য কোনও খেদ নেই তাঁর। তবে দলনেত্রী বললে যে তিনি দ্রুত ত্রিপুরা চলে যাবেন, তা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। অনুব্রত বলেন, আমি গোল দিতেই ভালোবাসি। রেফারি হতে ভালোবাসি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেই ত্রিপুরায় গিয়ে খেলা করব। অর্থাৎ দলের জন্য নেত্রীর নির্দেশে যে কোন সময় যে কোন ময়দানে লড়তে প্রস্তুত তিনি। এই কারনেই হয়ত দলে তার দাপট যতোটা সমর্থকদের মধ্যে তার জন্য সন্মান ও ভালোবাসাও রয়েছে ততোটাই। এখন মুখ্যমন্ত্রী তাকে ত্রিপুরার ময়দানে নামার সুযোগ করে দেন কি না তাই দেখার অপেক্ষা।
