রাজ্যে একুশের নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে থেকেই কিংবা বলা চলে প্রচারপর্ব শুরু হওয়া থেকেই বিপুল পরিচিত বা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল একটি শব্দ, 'বহিরাগত'। কে বহিরাগত আর কে নয় সেই নিয়ে জনসভাগুলির মঞ্চে বাগযুদ্ধ হয়েছিল বিপুল। যে ধারা এখনও বজায় রয়েছে উপনির্বাচনেও। বিজেপি প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালকে বহিরাগত দেগে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এবার সেই একই অভিযোগ করল বিজেপি। নিশানায় ইলেকশন স্পেশালিস্ট প্রশান্ত কিশোর ওরফে পিকে। তাঁকেও বহিরাগত তকমা দিল গেরুয়া শিবির।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। এদিন ভবানীপুরের ২২২ নম্বর পার্টের একটি ভোটার লিস্টের একটি অংশের ফোটো কপি ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে পিকে-র। ভবানীপুরের সেন্ট হেলেন স্কুলে তাঁকে ভোট দিতে হবে।
পিকে-র ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র সপ্তর্ষি চৌধুরী টুইট করেন, অবশেষে প্রশান্ত কিশোর ভবানীপুরের ভোটার। বাংলার মেয়ে কি তবে বহিরাগত ভোটার চায়? এ ব্যাপারে অবশ্য তৃণমূলে তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
{link}
একুশের বিধানসভা ভোটের আগেই তড়িঘড়ি করে পিকে-র নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়েছে বলে দাবি বিজেপির। কারণ ২০২১ সালের ১৫ই জানুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিলের মধ্যে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও প্রশান্তের ঘনিষ্ট মহলের দাবি, এই কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে পিকের নাম তোলা হয়েছিল অনেক আগেই। তৃণমূল সূত্রে খবর, পিকে যে ভবানীপুরের ভোটার, তা জানতেন তৃণমূলের নেতারা। তবে বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেননি তিনি। উপনির্বাচনে দেন কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে তাঁরা।
ভবানীপুর উপনির্বাচনে প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল প্রার্থী হওয়ায় বহিরাগত তকমা সেঁটে প্রাচার করছে তৃণমূল। এবার সেই একই তিরে তৃণমূলকে বিদ্ধ করতে চাইছেন গেরুয়া নেতৃত্ব।এখন এটাই দেখার বিষয়, ভবানীপুরের মানুষ কাকে বেছে নেন শেষ পর্যন্ত। কেই বা বহিরাগত কেই বা 'নিজের লোক', সবটাই জানা যাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর। যদিও রাজনীতিবিদদের মতে দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

