একেবারে চারে চার! একুশের বিধানসভা নির্বাচনের মতো উপনির্বাচনেও জয়ের ধারা অব্যাহত তৃণমূলে! রাজ্যের চারটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনেই গোহারা হেরেছে বিজেপি। জয়ের মার্জিন দেখে মনে হবে যেন ময়দানে লড়াইয়ের ধারে কাছেও ছিল না পদ্মের শিবির। মাস কয়েক আগের বিধানসভা নির্বাচনে এই চারটি কেন্দ্রের মধ্যে দুটিতে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। উপনির্বাচনে সেই দুটিও গেল জোড়াফুলের দখলে।
বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারের দিনহাটা এবং নদিয়ার শান্তিপুর এই দুটি আসনেই জয়লাভ করে বিজেপি। দিনহাটায় জয়ী হন বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক। আর শান্তিপুরে জয়ী হন বিজেপির জগন্নাথ সরকার। উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা কেন্দ্রে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থীরা। খড়দহে কাজল সিনহা এবং গোসাবায় জয়ন্ত নস্কর জয়ী হন বিপুল ভোটে।
{link}
নিশীথ এবং জগন্নাথ দুজনেই সাংসদ পদ ধরে রাখায় ইস্তফা দেন বিধায়ক পদে। তার জেরে উত্তর ও দক্ষিণের ওই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন জরুরি হয়ে পড়ে। আর কাজল ও জয়ন্তের অকাল মৃত্যুর জেরে উপনির্বাচন হয় দুই চব্বিশ পরগনায়। চার কেন্দ্রের এই উপনির্বাচনের দিকে নজর ছিল রাজ্যবাসীর। চারটি কেন্দ্রের রাশই নিজেদের হাতে নিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তৃণমূল নেতৃত্ব। আর জয়ী হওয়া দুই আসন ধরে রাখতে লড়াই জারি রাখেন গেরুয়া নেতৃত্ব। টানটান উত্তেজনার লড়াইয়ের শেষে চার কেন্দ্রেই জয় ছিনিয়ে নেয় জোড়াফুল শিবির।
{link}
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিনহাটা এবং শান্তিপুর কেন্দ্র দুটি বিজেপির হাতছাড়া হওয়ার কারণ পদ্ম শিবির নিজেই। দিনহাটায় মানুষ ভোট দিয়েছিলেন নিশীথকে, বিজেপিকে নয়। তাঁর অনেকটা ‘মসীহা’ ইমেজই তাঁকে এনে দিয়েছিল জয়। শান্তিপুরের ক্ষেত্রেই তা-ই। শান্তিপুরবাসী ভোট দিয়েছিলেন জগন্নাথ সরকারকে, বিজেপিকে নয়। তাই জগন্নাথ সরে যেতেই এখানেও টলে গিয়েছে বিজেপির আসন। মুখ থুবড়ে পড়েছেন দুই পদ্ম প্রার্থী। জোড়াফুলের ঝড়ে কার্যত ঢাকা পড়ে গেছে পদ্ম।
উল্লেখযোগ্যভাবে এই কারনে রাজ্যের বিধানসভায় আরও কিছুটা শক্তি যেমন একাধারে বৃদ্ধি পেল তৃণমূলের, তেমনই একইভাবে বেশ কিছুটা শক্তি হ্রাস পেল বিজেপি অর্থাৎ বিরোধী শিবিরের। রাজ্যজুড়ে এখন সর্বত্রই শুধু ঘাসফুলের ছড়াছড়ি।
