একপাক্ষিক নয়, ভোট হোক গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে। বিলম্বিত বোধদয়ের কারনে কড়া বার্তা তৃণমূল কংগ্রেসের। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একচেটিয়া ভোট করানোর অভিযোগ উঠেছিল। তার জেরে কালিমালিপ্ত হয়েছিল দলের ভাবমূর্তি। এবার আর যাতে তা না হয় সেজন্য পুরভোটে দলীয় প্রার্থীদের কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটদানে বাধা দেওয়া বা কোনওরকম বিশৃংখলার অভিযোগ উঠলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেন তিনি। অভিযুক্ত প্রার্থীকে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে। অর্থাৎ কোন অসাধু উপায়ে নয়, পুরসভা নির্বাচন নিয়ম অনুযাই সৎভাবেই জয় করতে চাইছে তৃণমূল।
শনিবার দক্ষিণ কলকাতার মহারাষ্ট্র নিবাস হলে কলকাতা পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিল তৃণমূল। প্রার্থীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম সহ তৃণমূলের অন্য নেতারা।
{link}
এ দিনের বৈঠকে তৃণমূল প্রার্থীদের বিনয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিষেক। বলেন, মাথা নিচু করে সব মানুষের কাছে যেতে হবে। কে সিপিএম, কে কংগ্রেস, কে বিজেপি করে দেখার দরকার নেই। যে মানুষ কোনও কারণে এখনও বিরূপ রয়েছেন তাঁর কাছে যেতে হবে। দল বড় হয়েছে। সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। পুরনো, নতুন কর্মী সবাইকে নিয়েই কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ত্রিপুরাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল পৌঁছে গিয়েছে। আগামী দিনে আরও রাজ্যে যাবে। লক্ষ্য ২০২৪।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একুশের বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস একলপ্তে বেড়ে গিয়েছে বেশ কয়েকগুণ। ভবানীপুর উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীর বিপুল ভোটে জয়ের পর তৃণমূল নিশ্চিত, কলকাতা পুরভোটে জয় তাঁদের স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তাই ছাপ্পা-রিগিং-ভোট লুটের মতো ঘটনা না ঘটানোই ভালো। তাতে অন্তত দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। কিছুদিন আগে ‘অপরাধ’ স্বীকার করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। অনুব্রতের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন বনগাঁর এক তৃণমূল নেতাও। সেই কারনেই আগে থাকতেই দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্কতাবানী দিয়ে রাখলেন অভিষেক। সাফল্যের চূড়ায় থাকা দলের গায়ে কালি না লাগুক তাই চাইছেন তারা।
