একুশের নির্বাচনের পূর্বে পরিবারতন্ত্রের কারনেই একাধিক অভিযোগ তুলে নিজের দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন শুভেন্দু। বিধানসভা নির্বাচনের পর এবার পুরসভা নির্বাচনেও তৃণমূলে জাঁকিয়ে বসেছে পরিবারতন্ত্রের ছায়া! কলকাতা পুরভোটে এমন অনেক প্রার্থী রয়েছেন যাঁদের পরিবারের কোনও না কোনও সদস্য সক্রিয় রাজনীতি করেন। দলের একনিষ্ঠ কর্মীদের বাদ দিয়ে এই ‘পারিবারিক প্রার্থী’দের টিকিট দেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে তৃণমূলের অন্দরেই। যদিও তৃণমূল নেত্রীর রোষানলে পড়ার ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন ‘বিক্ষুব্ধ’রা। কিন্তু দলের অন্দরে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
{link}
১৯শে ডিসেম্বর কলকাতা পুরসভার ভোট। এই ভোটে প্রার্থী হতে চেয়ে আবেদন পত্র জমা পড়েছে বিস্তর। এই সব আবেদনপত্র বিবেচনা করেই বাছাই করা হয়েছে ১৪০ জনের নাম। পরে বিবেচনা করা হয়েছে আরও চারজনের নাম। কলকাতা পুরসভার আসন সংখ্যা ১৪৪। তার মধ্যে পুরসভার ৪৪টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। মহিলাদের পাশাপাশি প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তরুণদেরও। দলীয় কাউন্সিলরদের পারফরম্যান্সও বিচার করা হয়েছে। তার জেরে বাদ গিয়েছেন এক ঝাঁক বিদায়ী কাউন্সিলর।
এসবের মধ্যেই চোখে পড়ার মতো ঘটনা হল, কংগ্রেসের মতো পরিবারতন্ত্রের ছায়া পড়েছে তৃণমূলেও। খোদ তৃণমূল নেত্রীর ভাইয়ের স্ত্রী কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর স্বামী কার্তিক তৃণমূলের নেতা। মমতার ভাইপো অভিষেক তো দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড।
{link}
তৃণমূল নেত্রীর ভাইয়ের স্ত্রী ছাড়াও আরও একঝাঁক প্রার্থী রয়েছেন যাঁদের পরিবারের কোনও না কোনও সদস্য সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত। এঁরা হলেন শশী পাঁজার মেয়ে পূজা, শান্তনু সেনের স্ত্রী কাকলি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে সৌরভ। প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বোন তনিমাকেও প্রার্থী করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। এরা সকলেই সেইভাবে দলের প্রতি সক্রিয় নন বলে অভিযোগ দলের একটি অংশের কর্মীদের। এনাদের থেকেও যোগ্য প্রার্থী দলে ছিল ওই সমস্ত কেন্দ্রগুলিতে বলেও অভিযোগ তুলছেন দলের একটি অংশের কর্মীরা। শেষমেষ এবার কি তৃণমূলের ক্ষেত্রেও বাড়তি থাকা পরিবারতন্ত্রই কাল হয়ে দাঁড়াবে!
