বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছিল ২রা মে। তারপর ব্যবধান মাত্র মাস পাঁচেকের। এই অল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপির কাছ থেকে দুই কেন্দ্রের রাশ ছিনিয়ে নিল তৃণমূল। এই পরাজয়ের দায় কার? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এজন্য দায়ী বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। দলীয় নেতৃত্বের নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়িও ভালোভাবে নেয়নি দিনহাটা ও শান্তিপুরের ভোটাররা। সেই কারণেই বিজেপির হাতছাড়া হয়েছে ওই দুই আসন।
{link}
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারের দিনহাটা এবং নদিয়ার শান্তিপুর এই দুটি আসনেই জয়ী হন পদ্ম-প্রার্থীরা। দিনহাটায় জয়ী হন বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক। আর শান্তিপুরে জয়ী হন গেরুয়া শিবিরেরই জগন্নাথ সরকার। উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থীরা। খড়দহে কাজল সিনহা এবং গোসাবায় জয়ন্ত নস্কর পরাস্ত করেছিলেন বিজেপি প্রার্থীদের। নিশীথ এবং জগন্নাথ দুজনেই সাংসদ পদ ধরে রাখায় ইস্তফা দেন বিধায়ক পদে। তার জেরে উপনির্বাচন জরুরি হয়ে পড়ে দিনহাটা এবং শান্তিপুরে। আর কাজল ও জয়ন্তের অকাল মৃত্যুর জেরে উপনির্বাচন হয় দুই চব্বিশ পরগনায়।
কী কারণে বিজেপির হাতছাড়া হল দিনহাটা ও শান্তিপুর? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়ার পর গেরুয়া অন্দরে শুরু হয় কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি। যার জেরে বীতশ্রদ্ধ হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন বহু বিজেপি কর্মী। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো রয়েছে দলবদলুদের অবস্থান। বিজেপি সরকার গড়ায় অবস্থায় নেই দেখেই ‘কেটে পড়ার ধান্ধা’ করতে থাকেন দলবদলুদের একটা বড় অংশ। পরিস্থিতি অনুকূল হতেই শুরু হয় উইকেট পতন। ছেলে শুভ্রাংশুকে নিয়ে মুকুল রায় শিবির ছাড়তেই টুপটাপ খসে পড়তে থাকেন দলবদলুরা। ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করে ফেরেন তৃণমূল শিবিরে।
{link}
আরও একটা কারণ রয়েছে। একুশের ভোটে যেসব হার হয়েছে বিজেপির। তার পরেও জেলায় জেলায় দলীয় কর্মী-সমর্থকরা অত্যাচারের শিকার হলেও, কোনও নেতাকে পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। যার জেরে বিজেপির নিচুতলার কর্মীরা বিশেষ ভরসা পাননি ওপরতলার নেতাদের। সব মিলিয়ে দিনহাটা এবং শান্তিপুরে জয় অনায়াস হয়েছে তৃণমূলে। বিজেপি রয়ে গিয়েছে ব্যাক বেঞ্চেই।
এখন আবারও এই ব্যাক বেঞ্চ থেকে ফিরে আসা আদৌ কি সম্ভব হবে বিজেপির পক্ষে? বিজেপির দাবি, সন্ত্রাসের কারনেই এহেন বড়ো মার্জিনে জয় হয়েছে শাসক শিবিরের। তবে বিজেপি পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করে বলেই মন্তব্য করেছেন অধিকাংশ বিজেপি নেতৃত্ব। এখন দেখা যাক ঘুরে দাঁড়ানো আদৌ সম্ভব হবে কি না।
