একসময় যেই সংগঠন রাজ্য সরকারের ভীত টলিয়ে দিতে উদ্যত হিয়েছিল, আজ সেই সংগঠনেরই হাল ভাঙা নৌকার মতো। যে কোনও দিন ভেঙে পড়তে পারে সেই নৌকার মাস্তুলের একটা বড়ো অংশ। দল ভেঙে চলে যেতে পারেন দলবদলুদের একটা বড় অংশ। মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার পর এই আশঙ্কার মেঘই ক্রমেই জমছে। এই অবস্থায় উপনির্বাচন হলে সমূহ বিপদ। ফের তৈরি হবে মুখ থুবড়ে পড়ার সম্ভাবনা। তাই তৃণমূল সুপ্রিমোকে রুখতে নয়া ছক কষছেন গেরুয়া নেতৃত্ব।
{link}
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র ছেড়ে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির তরফে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী হন শুভেন্দু অধিকারী। হাজার দুয়েক ভোটে হেরে যান মমতা। যদিও এই ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেই জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল মমতাকে।এর পরেই আদালতের দ্বারস্থ হন মমতা। নন্দীগ্রামে একটুর জন্য পরাজয় লাভ করলেও মমতা ছাড়া আশাতীত সাফল্য অর্জন করেছে তৃণমূল। স্বাভাবিকভাবেই তারা এখন চাইছে দ্রুত উপনির্বাচন করাতে। রাজ্যের চারটি আসনে উপনির্বাচন করতে হবে। দুটি সাধারণ নির্বাচনও বাকি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির বেশ কিছুটা উন্নতি হয়েছে রাজ্যে। তাই এই সময়ই ভোট করানোর পক্ষপাতী তৃণমূল নেতৃত্ব। সেজন্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থও হয়েছেন তাঁরা।
{link}
সূত্রের খবর, তৃণমূল চাইলেও, এই মুহূর্তে ভোট করানোর পক্ষপাতী নন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। কারণ অগোছালো সংগঠন। দলবদলুদের একটা বড় অংশ ফিরতে পারেন পুরানো দলে। বিজেপিরও কয়েকজন গিলতে পারে শাসক দলের টোপ! সর্বোপরি, উপনির্বাচনে বরাবরই ফল ভালো হয় শাসকদলের। তাই এখনই নির্বাচন হলে ভরাডুবির আশঙ্কা থেকেই যায়। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, সেই কারণেই বিজেপির আশু লক্ষ্য যেন-তেন-প্রকারেন নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া। করোনা পরিস্থিতির অজুহাতে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া গেলেই কেল্লাফতে। তাছাড়াও এখন বিজেপির বেশ কিছু শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি বুঝে বেঁকে বসেছেন, অনেকের মনের ভিতর ক্ষোভের আগুন। একাধিক সমস্যার জর্জরিত রাজ্যের পদ্ম শিবির। এবং উল্টোদিকে নিজদের রাজনৈতিক ভীত আরও অনেক শক্ত করে নিয়েছে তৃণমূল। এতোএব উপ-নির্বাচনে তাদের টেক্কা দেওয়া যথেষ্ট কঠিন কাজ বলেই মতামত রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।
{ads}