নিজস্ব সংবাদদাতাঃ খেলার সময় যখন ৫৬ মিনিট তখনই কর্নার থেকে হঠাৎ একটি অপ্রত্যাশিত গোল পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। মাঠে রীতিমতো ছন্দহীন দেখাচ্ছিল সবুজ মেরুন ব্রিগেডকে। যে দক্ষ বল পাসিং সহ সুন্দর খেলা হুয়ান ফেরান্দোর ছেলেরা উপহার দিয়ে থাকে, তার একটুও যেন চোখে পড়ছিলনা কোলাসোদের খেলায়। তারপর ম্যাচে ৬১ মিনিটে একটি পরিবর্তন। দীপক টাংরিকে তুলে যুব প্রতিভা কিয়ান নাসিরি কে মাঠে নামালেন মোহনবাগান কোচ। যে একটা পরিবর্তন সম্পূর্ন পাল্টে দিল ম্যাচের ছবি। কিয়ান নাসিরির করা হ্যাটট্রিকে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা মোহবাগান ম্যাচ শেষে জয়লাভ করল ৩-১ গোলে।
ডার্বির ইতিহাসে এহেন প্রতিভার ঝলসে ওঠা খুব কমই দেখা গেছে। আজ এহেন এক প্রতিভা রূপেই ডার্বির মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন যুব প্রতিভা কিয়ান নাসিরি। স্বপ্নের ডেবিউ বোধহয় এর থেকে ভালো কিছু হওয়া সম্ভব নয়। যদিও প্রথমার্ধে শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ফুটবল খেলছিল দুই দলই। ভুল পাশের কারনে একটি সহজতম সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যার্থ হন ইস্টবেঙ্গলের নতুন বিদেশি মার্সেলো। প্রথমার্ধে কোন দলের খেলাতেই সেই ঝলক লক্ষ্যনীয় হয়নি।
{link}
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপায় মোহনবাগান। লিস্টন কোলাসোর শট বারে লেগে ফিরে না এলে শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত মোহনবাগান। তবে এহেন সময়েই কর্নার থেকে আচমকা ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন সিদেওল। ম্যাচের সময় তখন ৫৬ মিনিট। তারপরেই পরিবর্ত হিসাবে কিয়েন নাসিরিকে মাঠে নামান ফেরান্দো। বলের প্রথম টাচেই গোল করে মোহনবাগানকে সমতায় ফেরান তিনি। তার দুই মিনিটের মাথায় পেনাল্টি মিস করেন ডেভিড উইলিয়ামস। যদি ম্যাচ ড্র হত তবে সমর্থকদের বহু রাগ জমত ম্যাচের এই ঘটনার উপর। তারপর অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিটে মোহনবাগানকে গোল করে এগিয়ে দেন নাসিরি। এবং তার দুই মিনিটের মাথায় ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ন করেন ময়দানের এই যুব প্রতিভা।
{link}
নেই সমর্থক ভর্তি গ্যালারি। নেই তাদের জয়োল্লাস বা সমর্থনের চিৎকারও। গোয়ার জনশূন্য মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল ডার্বি। যে ছবিটা কলকারা ডার্বির সাথে কখোনই খাপ খায়না। তবে এই ডার্বিকে বাঙালি ও মোহন-ইস্ট সমর্থকরা মনে রাখবেন কিয়ান নাসিরি- এই নামটির জন্য। ডার্বির ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক পাতা রচিত হল আজ। তবে মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে তা যতোটা আনন্দের ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে ধীরে ধীরে যেন আইএসএল অভিশাপের রূপ নিচ্ছে।
