পশ্চিমবঙ্গে সহ পুরো দেশেই ক্রমশ বেড়ে চলেছে শিক্ষিত বেকারত্তের সংখ্যা। গত বছর মার্চের লকডাউনের পর থেকে দেশে বেকারত্তের পরিস্থিতি পৌছয় চরমে। এক ধাক্কায় বেকারত্বের হার হয়ে যায় ২০%। বহুজাতিক সংস্থাগুলির কর্ম সঙ্কোচনের ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে বেকারত্ব। এই সুযোগ তাই কাজে লাগিয়ে মোটা মাইনের টোপ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে মেধাবী বেকার যুবক যুবতীদের।
তার পরেই তাদের তালিম দিয়ে বানানো হচ্ছে জঙ্গি। সম্প্রতি জঙ্গি-জাল গুটোতে গিয়ে এমনই তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। জঙ্গিদের এই পাতা ফাঁদে পা দিয়ে অকালে হারিয়ে যাচ্ছেন শয়ে শয়ে তরুণ-তরুণী। গোয়েন্দারা এও জেনেছেন, নাশকতার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির কাছে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উঠছে সদর দফতর।
{link}
এঁদের মেধা থাকলেও হাতে কাজ না থাকায়, মাইনে পেলে যে কোনও কাজই এরা করতে আগ্রহী। বেকারত্বের জ্বালা সহ্য করতে না পারা এই তরুণ-তরুণীদেরই মোটা অঙ্কের বেতনের টোপ দিয়ে জঙ্গি দলে ঢুকিয়ে নিচ্ছে জঙ্গিদের চাঁই। তার পর নাম বদলে কখনও সদস্য সংগ্রহ, কখনও বা জঙ্গিদের অন্য কোনও কাজ করতে বাধ্য করানো হচ্ছে। যখন জঙ্গিদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন বলে বুঝতে পারছেন, ততক্ষণে ফিরে আসতে চাইলেও ফেরার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়ে তাদের জন্য।
যেমনটি ঘটেছিল, হুগলির ধনেখালির প্রজ্ঞা দেবনাথের সাথে। ২০০৯ সালে একদিন হঠাৎ সে উবে যায় বাড়ি থেকে। হারিয়ে যাওয়ার সাত বছর পরে তাকে গ্রেফতার করা হয় বাংলাদেশ থেকে। ততদিনে দেবনাথ বাড়ির মেয়েটি প্রমোশন পেয়ে হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের মহিলা সেলের নেত্রী। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে প্রজ্ঞা তখন আয়েশা জন্নত মোহনা।
কলকাতা থেকে ধৃত তিন জেএমবি জঙ্গিকে জেরা করে পুলিশের এসটিএফ জানতে পারে, মূলত বেকার তরুণ তরুণীদেরই মোটা মাইনের টোপ দিয়ে জঙ্গি দলে টেনে নিচ্ছে চাঁইরা। মালদহ, বীরভূম, মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে স্লিপার সেলের একাধিক সদস্য।এসটিএফের এক গোয়েন্দা বলেন, বেকার যুবক-যুবতীদের টার্গেট করে যেভাবে ধীরে ধীরে এই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জাল বিছোচ্ছে, তা রীতিমতো চিন্তার বিষয়।
রাজ্যে বেকারত্বের হার এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে যুবক যুবতীরা বিপথে চালিত হচ্ছেন। ভবিষ্যতেও যদি এরম চলতে থাকে এবং কেন্দ্র ও রাজ্য যদি কোন পর্যাপ্ত পদক্ষ্যেপ না নেওা হয় এই বিপদ্গামি রাস্তেয় যুবক যুবতীদের সংখ্যা আরও বাড়বে।এর সমাধান কোথায় এটাই এখন প্রশ্ন।

