অর্ন্তদ্বন্দ্ব যেন আর থামছেনা রাজ্যের পদ্ম শিবিরে। একের পর এক শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে একাধিক স্থানীয় স্তরের নেতা কু-গান গাইছেন দলের বিরুদ্ধে। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক বাগদার বিধায়ক। এদিন আবারও একবার বিজেপি নেতৃত্বকে তুলোধোনা করলেন তিনি। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাগদার বিধায়ক বিজেপির বিশ্বজিৎ দাস বলেন, এখানে যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁরা সত্যিই অযোগ্য। এঁদের প্রতি আগামীদিনে আর মানুষের আস্থা-ভরসা থাকবে না।
{link}
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। বনগাঁর ট-বাজার এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় জনৈক ঋষভ অধিকারী ও তাঁর মা মিতার। ঋষভ বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরে বিজেপির তরফে কেউ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যাননি বলে অভিযোগ। এই প্রসঙ্গেই বিশ্বজিৎ বলেন, ঋষভের মৃত্যুতে আমি মর্মাহত। সে আমার খুব কাছের ছিল। এই পার্টির কাজ করতে গিয়ে মার খেয়েছে। তখন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে আমার সঙ্গে বাগদায় মাটি কামড়ে পড়েছিল। সেই ছেলেটি এবং তাঁর মা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টির একটি মানুষকেও দেখা যায়নি তাঁদের শবদেহে একটি মালাও দিতে। শ্মশানযাত্রী হতে। দলীয় কর্মীর প্রতি যদি এই মানসিকতা থাকে তাহলে আগামী দিনে একটি মানুষও কী এগিয়ে আসবে? প্রশ্ন তাঁর। এর পরেই বিশ্বজিৎ বলেন, এখানে যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁরা সত্যিই অযোগ্য। এঁদের প্রতি আগামীদিনে আর ভরসা থাকবে না মানুষের। স্বাভাবিক ভাবেই এহেন ঘটনার কারনে মনে আঘাত পেয়েছেন এই রাজনৈতিক নেতা। সেই আঘাতই ক্ষোভের রূপ নিয়ে তার মুখ দিয়ে নির্গত হয়েছে। বিশ্বজিতের মন্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মনস্পতি দেব বলেন, বিষয়টি বিশ্বজিৎদা একবার আমাকে বলতে পারতেন। তাহলেই সমস্যা মিটে যেত।
{link}
বিশ্বজিৎ মুকুল রায়ের অনুগামী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। একুশের ভোটে বিজেপির বিপর্যয়ের পরে আরও অনেকের মতো তিনিও বেসুরো গাইছেন। এবার সরাসরি দলীয় নেতৃত্বকেই আক্রমণ করে বসলেন। এখন দেখার, তাঁর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ করেন গেরুয়া নেতৃত্ব। যদিও পদক্ষেপ যে তার বিরুদ্ধে খুব সুখকর হবে তাও নয়। নাহলেও ক্ষতি নেই, রাজ্যের শাসক শিবিরের দিকে পা বাড়িয়েই রেখেছেন বলেও মতামত রাজ্যের অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের।
