বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাম নবমীর আবহে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্টের প্রচেষ্টা। হনুমান মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনার চাঞ্চল্য পুরুলিয়ায়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, মঙ্গলবার পুরুলিয়ার কোটশিলা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। হনুমান মূর্তি ভাঙচুরের পাশাপাশি বাসন্তি প্রতিমায় কাদা ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে চারজনকে গ্রেফতার করেছে কোটশিলা থানার পুলিশ। ধৃতরা হলেন গাড়ু মাহাতো, অবিনাশ মাহাতো, কিরিটি মাহাতো এবং কৃপানাথ মাহাতো। ধৃতরা বিজেপির সক্রিয় কর্মী বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। যদিও, এই ঘটনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে, পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্টভাবে জানাতে চাননি।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে মুরগুমা থেকে বেগুনকোদর যাওয়ার রাস্তায় রাতের অন্ধকারে হনুমান মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্পষ্টভাবেই রাম নবমীর আগে এই মূর্তি ভাংচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হতে থাকা ক্ষোভের বিষয়টি আন্দাজ করে তড়িঘড়ি চার জন কে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে ধৃতরা সকলেই মুরগুমার বাসিন্দা। রাম নবমীর ঠিক আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তরজা শুরু হয়েছে।
শাসকদলের অভিযোগ, নির্বাচন দোড়গোড়ায় এসে গিয়েছে। সেই কারণেই রাম নবমীর আগে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলার উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “গ্রেফতার হওয়া সকলেই বিজেপির সক্রিয় কর্মী। সম্প্রতি তাদের রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর মতো শীর্ষ পদ্ম নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা গিয়েছে।“ এই প্রসঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি কোনও ইস্যু খুঁজে পাচ্ছে না। হার নিশ্চিত বুঝেই পরিকল্পিতভাবে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বিজেপি।
যদিও, এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। পরিবর্তে পাল্টা তৃণমূলের দিকেই তির ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পুরুলিয়া জেলার বিজেপির জেলা সভাপতি শংকর মাহাতো পাল্টা অভিযোগ করেছেন যে, “মূর্তি ভাঙার রাজনীতি তৃণমূল কংগ্রেসের। এটি তাদের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের উপর মানুষ আর আস্থা রাখতে পারছে না। সেই কারণেই তাঁরা এই ধরনের রাজনীতি করছে।“
